• ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

জয়ের সুযোগ হাতছাড়া, আবুধাবি টেস্টে অবিশ্বাস্য ড্র

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ১৩, ২০২৬
জয়ের সুযোগ হাতছাড়া, আবুধাবি টেস্টে অবিশ্বাস্য ড্র
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭টি উইকেট। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী টাইগারদের জয় একপ্রকার নিশ্চিত মনে হলেও শেষ পর্যন্ত সুযোগ হাতছাড়া আর বোলারদের ধারহীন পারফরম্যান্সে জয়বঞ্চিত হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতালের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতক এবং শেষ দিকে কায়েস আহমেদ ও ইয়ামিন আহমদজাইয়ের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ম্যাচটি অবিশ্বাস্যভাবে ড্র করতে সক্ষম হয়েছে আফগানিস্তান। ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে দিন শুরু করা আফগানরা কঠিন লক্ষ্য তাড়া করার পথে না গিয়ে শুরু থেকেই ম্যাচ বাঁচানোর ওপর গুরুত্ব দেয়।

সকালের সেশনে দেখে-শুনে ইনিংসের ভিত মজবুত করতে থাকেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি। তবে আবুধাবির প্রচণ্ড গরমে টানা ব্যাট করতে গিয়ে ক্র্যাম্পের কবলে পড়েন শহীদি, যার ফলে ৩৩ বলে ২০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এরপর মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে ব্রেক-থ্রু পায় বাংলাদেশ। ৭৮তম ওভারে পেসার এবাদত হোসেনের খাটো লেংথের বলে পুল করতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় লাগান ইকরাম আলিখিল। উইকেটের পেছনে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচে তাঁকে বিদায় করেন উইকেটকিপার লিটন দাস; ফেরার আগে ইকরাম করেন ৬৯ বলে ৩৩ রান।

বিরতির পর পঞ্চম উইকেটে আতাল ও ইসমত আলম ৪০ রানের ধৈর্যশীল জুটি গড়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ান। ৬০ বলে ৪ রান করা ইসমতকে অধিনায়ক শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর পুনরায় ক্রিজে ফিরে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা শহীদিকে ব্যক্তিগত ৩৬ রানে হাসান মাহমুদের ক্যাচ বানান এই স্পিনার। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন আতাল। দীর্ঘ ইনিংসের সমাপ্তি ঘটিয়ে তিনি যখন ৩৩২ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করে তাইজুল ইসলামের বলে সাজঘরে ফেরেন, তখনও টাইগারদের সামনে জয়ের পরিষ্কার সম্ভাবনা ছিল।

কিন্তু আতালকে ফেরানোর পর একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করার চরম মূল্য দিতে হয় সফরকারীদের। শেষ দিনে পিচে প্রত্যাশিত ফাটল না ধরায় তাইজুল, মিরাজ ও নাঈমদের সমন্বয়ে গড়া স্পিন আক্রমণ খুব একটা টার্ন বা ভীতি সৃষ্টি করতে পারেনি। এই সুযোগে লোয়ার অর্ডারে ইয়ামিন আহমদজাই ও কায়েস আহমেদ উইকেটে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে দিনের বাকি সময় নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে এবং হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান একটি করে উইকেট শিকার করলেও মাঠের ফিল্ডিং মিস ও শেষ বিকেলের প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত জয় অধরাই থেকে যায়।