জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার কারণ দেখিয়ে সব ধরনের পশু জবাইয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী, জকসুর নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা; ১২ অক্টোবর গরুর মাংসের খিচুড়ি আয়োজনকে কেন্দ্র করে হিন্দু শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই এ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
‘গরু’ নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে এ নির্দেশনা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) একাধিক নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদ, খেলাফত ছাত্র মজলিশ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের একাধিক নেতৃবৃন্দও এ নির্দেশনা প্রত্যাখ্যানের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন।
এ বিষয়ে জকসুর সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘বিরানব্বই ভাগ মুসলিমের দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করে উপাচার্য কাকে খুশি করতে চান? আপনার এসব দালালি পাশের দেশে গিয়ে করেন। আগামীকালই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু কোরবানি হবে, ইনশাআল্লাহ। ডিসিশন ফাইনাল।’
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, জবি শাখার সভাপতি আশিকুর রহমান আকাশ বলেন, ‘পূজার আগেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গরু নিয়ে মিছিল করে, জবাই করে গরুভোজের আয়োজন করবে, ইনশাআল্লাহ। পারলে প্রশাসন ঠেকিয়ে দেখাক।’
জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিন মিয়া শাওন বলেন, জবি ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে পার্টি করা হোক।
জবি ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান হাসান তপু বলেন, প্রশাসনকে বলব, পশু জবাই বন্ধের বিজ্ঞপ্তি তুলে নিতে। মাত্র ৭ একরের ছোটো এই ক্যাম্পাসের মধ্যে কোনো রেষারেষির প্রয়োজন নাই।
খেলাফত ছাত্র মজলিস, জবি শাখার সদস্য সচিব ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বছরে বছরে কুরবানির ইদে ৪০-৫০টা গরু কুরবানি হয় ক্যাম্পাসে; ইন্ডিয়ান হাইকমিশন মূলত এটা বন্ধ করতে চাচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে পুঁজি করে এমন দুরভিসন্ধিমূলক সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করা হয়। তবে এর পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির থাকায় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্নার মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ নাকচ করেন। তাঁদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী কী খাবেন বা কী করবেন, তা কোনো একক গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে দিতে পারে না। এ ছাড়া, আগামী বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে পুনরায় বড় পরিসরে গরুভোজের আয়োজনেরও ঘোষণা দেন তাঁরা।
ক্যাম্পাসে গরু জবাই ও মাংস রান্না নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সব ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়। এতে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।