• ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

অভিজিৎ দীপকের পর নেহা বোরাও আটক

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ১৬, ২০২৬
অভিজিৎ দীপকের পর নেহা বোরাও আটক
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ শুক্রবার রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে তার আগেই সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয়েছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ একাধিক নেতা-কর্মীকে।

অভিজিৎ দীপকের পর নেহা বোরাও আটক

ভারতের দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা ওড়াও) মিছিল শুরুর কয়েক মিনিট আগে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজ বাড়ি থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দীপকের দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে আটক করা হয়েছিল।

এবারের মিছিল আয়োজনের অন্যতম কারণ ছিল সিজেপির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেপ্তার। ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে তাঁরা দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। এর এক দিন আগে ঐতিহাসিক স্থানটিকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মিছিলের আগে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে কর্মসূচি পালন না করার বিষয়ে একটি নোটিশ দেয়। এরপর তাঁকে আটক করা হয়।

দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের জারি করা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজধানীর কনট প্লেস ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছেন।

নিজ বাসা থেকে আটক ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

নিজ বাসা থেকে আটক ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ বিকেলে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে দিল্লির ঝান্ডেওয়ালানে তাঁর বাড়ি থেকে বের হয়ে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা ওড়াও) কর্মসূচিতে যোগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে এর আগেই পুলিশ তাঁকে আটক করে। অন্যদিকে আইসা নেত্রী নেহা বোরা মান্ডি হাউসের কাছ থেকে মিছিল শুরু করার পরপরই পুলিশ তাঁকে আটক করে। এরপর তাঁকে একটি ‘অজ্ঞাত স্থানে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা।

এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার সকালে দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা করোল বাগ এলাকায় অভিজিৎ দীপকের বর্তমান বাড়িতে গিয়ে একটি নোটিশ দেন। নোটিশে বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে নির্ধারিত ‘তিরঙ্গা পদযাত্রা’ বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে দীপকে পদযাত্রা বাতিলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

বাসায় গিয়ে অভিজিৎকে সতর্ক করল পুলিশ, ‘তেরঙ্গা মিছিলে’ অনড় ককরোচরা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থল কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রস্তাবিত ‘তেরঙ্গা মিছিল’ বাতিল করতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে নোটিশ পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে পুলিশের জারি করা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করার ঘোষণায় অনড় থাকায় আটক ।

এর আগে যন্তর মন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ানো ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায় পুলিশ। সেই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানাতেই আজ এই ‘তিরঙ্গা মার্চ’-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটির সুপারিশ এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের মৌখিক পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে দিল্লি পুলিশ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে সব ধরনের মিছিল-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে দেয়। এর পরিবর্তে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে আন্দোলনের বিকল্প স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। তবে সিজেপি নেতাদের দাবি, সংসদ ভবন ও সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন মধ্য দিল্লি থেকে বিক্ষোভকারীদের দূরে সরিয়ে জনদাবিকে ধামাচাপা দিতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।