• ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে বিক্ষোভে যাওয়ার অনলাইন গেম ভাইরাল ভারতে

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬
পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে বিক্ষোভে যাওয়ার অনলাইন গেম ভাইরাল ভারতে
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ভারতে বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তরুণদের বিক্ষোভের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গনির্ভর অনলাইন গেম। এসব গেমে পুলিশের বাধা এড়িয়ে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানো কিংবা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম হাস্যরস ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে এভাবেই রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশ করছে।

এমনই একটি বহুল আলোচিত গেমের নাম ‘জন্তর মন্তর চলো’। ২৭ বছর বয়সী তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী সূরজ কুশওয়াহ এটি তৈরি করেছেন। গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত গেমটিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তরে পৌঁছানোর নানা বাধা তুলে ধরা হয়েছে। খেলোয়াড়েরা একটি মিছিল বা কাফেলা তৈরি করতে পারেন, পুলিশের চেকপোস্ট এড়িয়ে যেতে পারেন এবং বিক্ষোভ আয়োজন করতে পারেন। চাইলে পক্ষ পরিবর্তন করে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার ভূমিকাও নিতে পারেন।

কুশওয়াহর ভাষায়, এটি একধরনের ‘ডার্ক হিউমার’ বা অন্ধকার বাস্তবতানির্ভর হাস্যরস। তিনি বলেন, সংবাদে যা দেখছিলেন, তা অনেকটা সার্কাসের মতো মনে হচ্ছিল। মানুষ জন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন, অথচ তাঁদের আটক করা হচ্ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ত্রিমাত্রিক গেম তৈরির ভাবনা আসে। তাঁর দাবি, গেমটি প্রকাশের পর থেকে যে কোনো সময়ে অন্তত দুই হাজার মানুষ এটি খেলছেন।

এদিকে, আরেকটি গেমে বামপন্থী কর্মী নেহা বোরাকে মূল চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। পুরোনো আট-বিট আর্কেড গেমের আদলে তৈরি এটি। গেমটির সহনির্মাতা ৩০ বছর বয়সী আনাভ নায়ার বলেন, শিল্পীদের কাছে ব্যঙ্গ হলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমগুলোর একটি।

অনলাইনেই রসিকতা হিসেবে শুরু হওয়া ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা আন্দোলনও এই প্রবণতাকে প্রভাবিত করেছে। গত জুলাইয়ে এই আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটি যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন এবং বিজেপি সুবিধা পেয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াইয়ের মতে, অনলাইন ও মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক বয়ান নিয়ন্ত্রণে বিজেপির দীর্ঘদিনের প্রভাবকে তরুণ প্রজন্ম বিভিন্ন মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।