• ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে গত ৮০ বছরের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬
তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে গত ৮০ বছরের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে গত ৮০ বছরের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও পার্ক। বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে অসংখ্য যানবাহন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ১৯৪২ সালের পর দেশটিতে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় ইস্তাম্বুলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ঐতিহাসিক গড় বৃষ্টিপাতের সম্মিলিত পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের এই শহরে অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সারিয়ার এলাকায় একটি সেতুর নিচ থেকে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বন্যায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ঝড়ের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

বন্যার পানিতে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে সড়ক ও পার্ক। প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া অনেক যানবাহন পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে নেমে এক জায়গায় স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সারিয়ার এলাকার আয়াজাগায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিফতচি জানিয়েছিলেন, বন্যার পর চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এর আগে শুক্রবারই একজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।

মন্ত্রী আরও জানান, বন্যাসংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ৯ হাজার ৮৫০টি অভিযোগ ও প্রতিবেদন জমা পড়েছে। ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় ইস্তাম্বুলে ৪৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম।

নদী ও জলপথের কাছাকাছি অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।

আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন মুরাত কুরুম। বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কোনো বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য।