ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ব্রাসেলস ও স্ট্রাসবুর্গ কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিসের (ইপিপিও) পরিচালিত একটি তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে চরম ডানপন্থী সাবেক সংসদীয় গোষ্ঠী আইডেন্টিটি অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আইডি), যার সাথে ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) দল যুক্ত ছিল। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মেয়াদকালে এ গোষ্ঠীর কার্যক্রমে ইউরোপীয় তহবিলের অর্থ অপব্যবহার বা আত্মসাতের সন্দেহে তদন্ত চলছে।

ফ্রান্সের গণমাধ্যম বিএফএম টিভির সূত্র অনুযায়ী, বর্তমান ইউরোপীয় সংসদীয় গোষ্ঠী ‘দ্য প্যাট্রিয়টস’ এক বিবৃতিতে তল্লাশির বিষয়টি জানিয়েছে। এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জর্দান বারদেলার নেতৃত্বাধীন ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি। প্যাট্রিয়টসের বিবৃতি অনুযায়ী, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ব্রাসেলস ও স্ট্রাসবুর্গ; দুই শহরের কার্যালয়ে আইডি গোষ্ঠীর সাবেক প্রশাসনিক দফতরগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে বর্তমান গোষ্ঠীটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিলুপ্ত হওয়া আইডি গোষ্ঠীর সাথে তাদের কোনো আইনি ধারাবাহিকতা নেই।
তল্লাশির পর প্যাট্রিয়টস গোষ্ঠী নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত চলছে না বলে দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এ অভিযান সাবেক আইডি গোষ্ঠীর মহাসচিবকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের লক্ষ্য সাবেক সংসদীয় গোষ্ঠী এবং এর সাবেক মহাসচিব; বর্তমান প্যাট্রিয়টস গোষ্ঠী তদন্তের আওতায় নেই। একই সাথে তিনি দাবি করেন, কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দফতরে তল্লাশি চালানো হয়নি।
তদন্তের মূল বিষয় হলো, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মেয়াদকালে আইডি গোষ্ঠীর ব্যবহৃত ইউরোপীয় অর্থের সম্ভাব্য অনিয়ম। ইউরোপীয় সংসদীয় গোষ্ঠীগুলো তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউরোপীয় তহবিল থেকে অর্থ পেয়ে থাকে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, আইডি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই অর্থের ব্যবহারে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
এটি এই তদন্তে প্রথম অভিযান নয়। এর আগে গত জুন মাসেও ইউরোপের একাধিক দেশে তল্লাশি চালানো হয়েছিল, যার মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। ওই অভিযানগুলো ইউরোপীয় তহবিলের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে চলমান তদন্তের অংশ ছিল। এবারের তল্লাশি সেই তদন্তে নতুন কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিসের পক্ষ থেকে নতুন অভিযানের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তের বর্তমান পর্যায়, সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ ও সম্ভাব্য পরের আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
রাজনৈতিকভাবে ঘটনাটি ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তদন্তাধীন সাবেক আইডি গোষ্ঠীর সাথে আরএনের পূর্ববর্তী সংসদীয় সম্পর্ক থাকলেও বর্তমান প্যাট্রিয়টস গোষ্ঠী নিজেদের আইনি অবস্থান আলাদা বলে তুলে ধরছে। তবে কোনো গোষ্ঠীর সাথে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকা ও সেই গোষ্ঠীর আর্থিক অনিয়মে সরাসরি জড়িত থাকা এক বিষয় নয়। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও অর্থ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র নির্ধারিত হওয়ার কথা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুই গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে এই তল্লাশি ইউরোপীয় তহবিলের স্বচ্ছতা ও সংসদীয় গোষ্ঠীগুলোর অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের দায় নিশ্চিতভাবে আরোপ করা যায় না।