• ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

চলতি বছর হচ্ছে না ট্রাম্প-কিমের বৈঠক, সাড়া দিচ্ছে না উত্তর কোরিয়া

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০২৬
চলতি বছর হচ্ছে না ট্রাম্প-কিমের বৈঠক, সাড়া দিচ্ছে না উত্তর কোরিয়া
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে চলতি বছর বৈঠকের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে। ট্রাম্প আলোচনায় আগ্রহী হলেও পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে না। আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হতে পারে বলে আগে আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক উদ্যোগে সাড়া দিচ্ছে না পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসার আগে কঠোর শর্ত দিতে পারে পিয়ংইয়ং। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও থাকতে পারে। তবে কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো ‘চমৎকার’।

এর আগে গত আগস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। কিমও এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন তিনি। গত মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিল, ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চীনের শেনঝেনে এপেক সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার সাক্ষাতের ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গত সোমবার ট্রাম্প নিজেই বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কিমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো। কিন্তু কেউ বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বৈঠকের জন্য পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের আলোচনার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে সিউল। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কাং কিয়ং-হোয়াও এর আগে বলেছিলেন, শীর্ষ বৈঠকের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ট্রাম্প কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই কিমের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে এ মুহূর্তে ঘোষণা করার মতো কোনো বৈঠকের সূচি নেই। উপযুক্ত সময়ে দুই নেতা বৈঠকে বসবেন বলে জানান তিনি।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ ফেলো অঙ্কিত পান্ডার মতে, এপেক সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও কম। তাঁর ধারণা, বৈঠকের আগে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় ধরনের প্রকাশ্য ছাড় বা ইতিবাচক বার্তা প্রত্যাশা করতে পারে।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়। ফলে দুই কোরিয়া তাত্ত্বিকভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তায় দেশটিতে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার হাতে বর্তমানে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে তিনটি ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেসব বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।