ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে ২ বিলিয়ন দলের বিনোয়োগ করেছে অবকাঠামো খাতে। চীনের সঙ্গে জাপানের যে দ্বন্ধ সেটা চায়না প্লাস ওয়ান।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেই জাপান দীর্ঘদিন থেকে এগুচ্ছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এরইমধ্যে বলেছেন , দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’’ আওতায় ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক পেক্ষাপটে জাপান চায় ভারতকে যুক্ত করে নেপাল ভুটানে সম্প্রসারণ। বাংলাদেশে জাপানের আগামী পরিকল্পনামুখী বিনোয়োগের বড়ধরণের পরিকল্পনা আছে। তার মধ্যে মুখ্য উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে, নেপাল, ভুটান সহ দক্ষিন এশিয়ার দেশ গুলোতে সহজে রপ্তানি করা।
সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে অর্থাৎ বাংলাদেশের সীমানায় বঙ্গোপসাগরকে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ করেই বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ।
জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ODA) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে একটি পেট্রোল ভেসেল এবং অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি পেট্রোল বোট দেওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগের পূর্বাভাসকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এ বিনিয়োগের ফলে উৎপাদন, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ওষুধশিল্পে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, জরুরি ঋণ সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও উঠে এসেছে।
জাপানের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান সুমিটমো কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিতে কাজে মেট্রোরেল প্রকল্পে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জাপানের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান সুমিটমো কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিতে কাজ করবে এলএন্ডটি’র ট্রান্সপোর্টেশন ইনফ্লাস্ট্রাকচার বিভাগ।
ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম প্যাকেজের (CP09 ও CP10) নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজের বড় চুক্তি লাভ করেছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তাদের পরিবহন ব্যবসা বিভাগ ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এসব কাজের চুক্তি পেয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের চুক্তিকে বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের কাজ পেয়েছে।
‘মেরিটাইম সিল্ক রোড’
এখানে মেরিটাইম সিল্ক রোড বিষয়টি এড়িয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই। কূটনৈতিক ভাষায় লিখিত বিবৃতি না থাকলেও এটা জাপান চীন ভারত বাংলাদেশ স্বার্থে খুব স্পর্শকাতর।
বাংলাদেশ নিয়ে চীনের বড় প্ল্যান! ‘মেরিটাইম সিল্ক রোড’-এর আসল রহস্য। মাতারবাড়ি বন্দর হয়েছে মূল সংযোগ অংশ। এই মাতারবাড়ি বন্দর জাপান এবং চীনের জন্য বেশ আগ্রহের।

• ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর অংশ হিসেবে একবিংশ শতাব্দীর মেরিটাইম সিল্ক রোড ঘোষণা করেন।
• লক্ষ্য: দক্ষিণ চীন সাগর, ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে চীনের বন্দরগুলোকে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বন্দরগুলোর সাথে যুক্ত করা।
• বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: বর্তমান মেরিটাইম সিল্ক রোডে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে চীন–বাংলাদেশ সরাসরি সমুদ্র যোগাযোগ।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮৪ কোটি মার্কিন ডলার। এই বাণিজ্য আরও বাড়ানো, নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এবার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে যাচ্ছে দুই দেশ। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে ঢাকায়। এই বিষয়টি নিয়ে ও জাপানের আগাম চিন্তা রয়েছে বাংলাদেশে তাদের বিনোয়োগ।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রিপুরার আগরতলায় ভারত, বাংলাদেশ ও জাপানি কর্মকর্তাদের সভা
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরের সময় বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে এই শিল্পাঞ্চলের প্রস্তাব উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জাপানি গণমাধ্যমেও এ বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করা হয় । সেই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদের ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
ত্রিপুরার আগরতলায় ভারত, বাংলাদেশ ও জাপানি কর্মকর্তাদের সভাও হয়েছে এ বিষয়ে। ওই সভার পর ভারতে জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোশি সুজুকি রয়টার্সকে বলেছেন যে , “এটা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য উইন-উইন পরিকল্পনা হবে”।
অর্থাৎ তার মতে দু’দেশই এ পরিকল্পনা থেকে সমভাবে লাভবান হবে। আগরতলার ওই বৈঠকে জাপানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের মন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি।
‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি (BIG-B)

বাংলাদেশ ও জাপানের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি (BIG-B) সম্প্রসারণ করে ‘BIG-B for Shared Prosperity’ বা ‘যৌথ সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ ধারণা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।
‘বিগ-বি’-এর ভিত্তিতে দুই প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও আইসিটি অবকাঠামোর উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মাতারবাড়ীতে নির্মাণাধীন গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে নতুন একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে জাপান, যেখানে মূলত নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন করা হবে। এ কারণে গভীর সমুদ্রবন্দর ছাড়াও পণ্য সরবরাহের জন্য সেখানকার সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে চায় দেশটি।
জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ। জাপান ২০০৫ সাল থেকে চীন ধীরে ধীরে বিনিয়োগ কোম্পানি সরিয়ে নিচ্ছে। এর নাম দিয়েছে চায়না প্লাস ওয়ান। তাই তারা বাংলাদেশ , থাইওয়ান , কম্বোডিয়াতে বিনোয়োগ করেছে। কিন্তু ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে জাপানের বিনোয়োগের মূল সফল পেতে বাংলাদেশে বিনোয়োগ গুরুত্বপুর্ণ। সহজেই বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে জাপানের উপাদিত প্রোডাক্ট সরবরাহ করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের অংশীদার বন্ধু হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী রহমানকে তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’
তাকাইচি বলেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের জাতি গঠনমূলক উদ্যোগগুলোকে জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে।
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত তারেক রহমান প্রশাসনের জাতি গঠনমূলক প্রচেষ্টাকে জাপান জোরালো সমর্থন দেবে।’
এই বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি জাপানের স্বীকৃতি এবং নতুন সরকারের সাথে সহযোগিতা আরো গভীর করার আগ্রহ ফুটে উঠেছে।
তাকাইচি বলেন, ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, উভয় নেতা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই উদ্যোগটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি মূল ভিত্তি।
দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই উদ্যোগটিকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামক একটি নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করা হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশকে ১৭ কোটি মানুষের একটি বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বাজার হিসেবে বর্ণনা করেন, যা জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন) বিনিয়োগ এবং দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন শীর্ষ দুই নেতা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জাপানের রাজধানী টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে প্রকাশিত ১৪ দফা যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। জাপানের রাজধানী টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগের পূর্বাভাসকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এ বিনিয়োগের ফলে উৎপাদন, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ওষুধশিল্পে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, জরুরি ঋণ সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও উঠে এসেছে।
এখন দেখার বিষয় হলো চুক্তিগুলো প্রকাশিত হলে জানা যাবে কোন দেশের কতটা সফল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা বিদ্যমান।