• ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচনে হেরে ব্রাজিল ছেড়ে ‘পালিয়েছেন’ বলসোনারো, ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ২৮, ২০২৬
নির্বাচনে হেরে ব্রাজিল ছেড়ে ‘পালিয়েছেন’ বলসোনারো, ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে ভিসা ইস্যু করবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবারই এ খবর প্রকাশ্যে আসে। এর এক দিন আগে, অর্থাৎ সোমবার, অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে বলসোনারোকে তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। তবে বলসোনারো তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবার তিনি বলেন, ‘দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা আমি কখনোই ভাবিনি।’ একই সঙ্গে বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিতে তিনি ব্রাজিলেই থাকবেন বলে জানান।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, বলসোনারো পরিবারের সদস্যরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এবার ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর পদক্ষেপকে লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন লুলা। তাঁর মতে, নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে বলসোনারোর দেশেই থাকা উচিত ছিল।

ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১ তম জন্মদিন উদ্যাপন অনুষ্ঠানে লুলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে গোপনে পালিয়ে যায়, তার নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, বলসোনারো পরিবারের কাছে ব্রাজিল হলো ‘দ্বিতীয় দেশ’, আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রথম দেশ। লুলা বলেন, ‘ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়ার এই কাজটি লজ্জাজনক।’

সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো প্রথম দিকে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এমনকি নির্বাচনের ফল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি। তবে সোমবার তাঁর দল এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। নির্বাচনে রক্ষণশীল প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৪ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনটিকে ‘আরেকটি কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন বলে মনে হচ্ছে।’ তবে ব্রাজিলের নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ভোট গ্রহণের সময়সীমা শেষ মুহূর্তে বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুললেও শেষ পর্যন্ত লুলা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তে নির্বাচনের ফলাফল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল না বললেই চলে।

এদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রো বলেছেন, ফ্লাভিও বলসোনারোকে ব্রাজিল ছাড়তে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, সে বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে জানানো উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কাস্ত্রো বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত হওয়া কোনো ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়ার বৈধ কারণ হতে পারে না। অথচ ট্রাম্প প্রশাসন ফ্লাভিও বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। ব্রাজিলে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তাঁকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্রাজিলের আইন লঙ্ঘন করে বলসোনারোকে দেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে কংগ্রেসের কাছে জবাবদিহি করতে হবে প্রশাসনকে।’

ফ্লাভিও বলসোনারোর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অবৈধভাবে তদবির করার দায়ে গত জুনে তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে পডকাস্ট উপস্থাপক স্টিভেন ক্রাউডারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, নির্বাচনে তাঁর ভাই হেরে গেলে ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই যদি জিততে না পারে, তাহলে তাঁর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পক্ষে আমি।’