অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস দ্বারা প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭৯৪৫ জন দাতাদের কাছ থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি সর্বোচ্চ ৭১৯.৮৫৮ কোটি অনুদান পেয়েছে। এর সাথে, বিজেপির গত আর্থিক বছরের (২০২১-২২ ) তুলনায় ১৭.১২% বৃদ্ধি পেয়েছে অনুদান, গত বছর এটি ছিলো ৬১৪.৬২৬ কোটি টাকা। ২০২২-২৩অর্থবছরের জন্য জাতীয় দলগুলির দ্বারা ঘোষিত মোট ১২,১৬৭টি অনুদান থেকে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ৮৫০.৪৩৮ কোটি।
ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেস ৭৯.৯২৪ কোটি পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল যা আগের অর্থবছরের থেকে ২০২১-২২(-১৬.২৭%) কমেছে। একইভাবে, সিপিআইএম কর্তৃক ঘোষিত অনুদানের হ্রাস ছিল ৩৯.৫৬% (৩.৯৭৮ কোটি), এবং আম আদমি পার্টি (আপ) দ্বারা প্রাপ্ত অনুদান ২.৯৯% (১.১৪৩ কোটি)। টানা ১৭ তম বছরের জন্য, বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ঘোষণা করেছে যে দলটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২০,০০০ টাকার বেশি কোনো অনুদান পায়নি।
এডিআর দ্বারা করা রাজ্য-ভিত্তিক অনুদান পৃথকীকরণ হাইলাইট করে যে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলিকে দিল্লি থেকে অনুদান দেওয়া হয়েছিল মোট ২৭৬.২০২ কোটি টাকা, তারপরে গুজরাট থেকে ১৬০.৫০৯ কোটি এবং মহারাষ্ট্র থেকে ৯৬.২৭৩ কোটি অনুদান দেয়া হয়েছে। মোট ৩৩১৮টি অনুদান এই রাজনৈতিক দলগুলিকে কর্পোরেট/ব্যবসায়িক খাতের দ্বারা করা হয়েছে যার পরিমাণ ৬৮০.৪৯৫ কোটি (মোট অনুদানের ৮০.০১৭%) এবং ৮৫৬৭ জন স্বতন্ত্র দাতা দলগুলিকে ১৬৬.৬২১ কোটি (মোট অনুদানের ১৯.৫৯২%) দান করেছেন।
রিপোর্টে যোগ করা হয়েছে, বিজেপি (৬১০.৪৯১ কোটি) ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য অন্যান্য সমস্ত জাতীয় দলগুলির দ্বারা ঘোষিত কর্পোরেট অনুদানের মোট পরিমাণের (৭০.০০৪ কোটি) আট গুণ বেশি পেয়েছে। প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট দলগুলির শীর্ষ দাতা হওয়ায়, বিজেপি (২৫৬.২৫ কোটি) এবং আপ (৯০ লাখ) একসাথে মোট ২৫৭.১৫ কোটি অনুদান দিয়েছে। ২০২২-২৩অর্থবছরে জাতীয় দলগুলির মোট অনুদান ৯১.৭০১ কোটি বেড়েছে, যা আগের আর্থিক বছরের ২০২১-২২থেকে ১২.০৯% বৃদ্ধি পেয়েছে।বিরোধীরা বলছেন, এডিআরের এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ দিচ্ছে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের লড়াইটি হতে চলেছে অসম। এককথায় সদ্য বাতিল হওয়া ইলেক্টোরাল বন্ড তো বটেই, সরাসরি কর্পোরেট চাঁদা অর্থাৎ ব্যবসায়িক চাঁদার ক্ষেত্রেও বিরোধীদের থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে বিজেপি।
সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস