মোহাম্মদ আহাদ মিয়া , ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ভেঙে “বরিশল” নামে নতুন উপজেলা করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল বাজারে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছেন রামরাইল ইউনিয়নবাসী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ভেঙে “বরিশল” নামে নতুন উপজেলা করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল বাজারে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছেন রামরাইল ইউনিয়নবাসী। একই সময়ে সুলতানপুর ইউনিয়নেও অনুরূপ প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচী চলাকালে রামরাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে কয়েকশত গ্রামবাসী রামরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নকে ভেঙে “বরিশল” নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। বক্তারা এই পরিকল্পনাকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানান।
কর্মসূচীতে রামরাইল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান সোহাগ বলেন, বাসুদেব, রামরাইল ও সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন নিয়ে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণকেন্দ্র হলো রামরাইল ইউনিয়ন। আমি কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, আপনি ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে যে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন, তা সফল হবে না। সর্বস্তরের জনগণ আজ মাঠে নেমে গেছে। আমাদের দাবি একটাই আমরা কখনো এই বরিশল উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হব না।
তরুণ আইনজীবী মুকুল চৌধুরী বলেন, তিনটি উপজেলা থেকে ইউনিয়ন নিয়ে নতুন যে উপজেলা করার চেষ্টা চলছে, তার প্রতিবাদে আমাদের এই আন্দোলন। এই কর্মসূচী একনাগাড়ে চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা না হবে, ততক্ষণ আমাদের প্রতিবাদ চলবে। আমরা চার ইউনিয়নবাসী যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করব।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ইমন হাজারী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও ব্যক্তির রাজনৈতিক অভিলাষ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনকে নানাভাবে চাপে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলাকে ভেঙে দিতে চাচ্ছে এবং বিষয়টিকে ঘিরে এলাকায় নানা অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। রামরাইল ও সুলতানপুরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে অন্য কোনো থানার অধীনে নেওয়ার প্রস্তাব আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। সদর উপজেলা আমাদের পরিচয় ও অহংকার।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম, বিএনপি নেতা সাদেকুর রহমান, বিএনপি নেতা আল আমিন, শাহগীর আলম, বাবুল খন্দকার, হানিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজন।