• ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২০শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

মধ্যরাত পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন, তাহসিফের বন্ধু দ্বীপ , সন্দেহের তীর তাহলে তৃতীয় কোন পক্ষ ? কোনদিকে ?

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২৬
মধ্যরাত পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন, তাহসিফের বন্ধু দ্বীপ , সন্দেহের তীর তাহলে তৃতীয় কোন পক্ষ  ? কোনদিকে ?
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার কথিত ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে লাশ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন এই দীপ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই সদস্যরা হেফাজতে নিয়েছেন।

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। গত ২৭ অক্টোবর তাহসিফের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন দ্বীপ। সেদিন দুজনে মিলে তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামত করান এবং পরে একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর উত্তরার হাউজবিল্ডিং এলাকায় আলাদা হয়ে যান তারা।

দ্বীপের দাবি, বাসায় ফিরে তিনি তাহসিফকে ফোন করেন। তবে তখন তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান। পরদিন সকালেও ফোনে তাহসিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাহসিফের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক, ঘটনার দিন তাদের একসঙ্গে কাটানো সময় এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দ্বীপ।

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সদ্য গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন দ্বীপ। তার বাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। দ্বীপ জানান, তাহসিফের সঙ্গে তার পরিচয় প্রায় ছয় বছরের। তাহসিফ তার খুব কাছের বড় ভাই ছিলেন। বয়সে বড় হওয়ায় তিনি তাহসিফকে ‘বড় ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করতেন।

তাহসিফ সৌরির বাসার নিচে দ্বীপ। ছবি: সংগৃহীত

তাহসিফ সৌরির বাসার নিচে দ্বীপ। ছবি: সংগৃহীত

যেভাবে কেটেছিল ২৭ অক্টোবরের সন্ধ্যা

দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মোটরসাইকেলটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি চালু হচ্ছিল না। মোটরসাইকেল সম্পর্কে ধারণা থাকায় এ বিষয়ে দ্বীপের পরামর্শ চান তাহসিফ। পরে দ্বীপ তার বাসায় যান। দুজনে প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে মোটরসাইকেলটি চালু করেন। এরপর সেটি একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে প্রয়োজনীয় মেরামত ও তেল পরিবর্তন করান।

কাজ শেষে দ্বীপকে রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানান তাহসিফ। পরে উত্তরার উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুক্কু’ রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে খাবার খান তারা।

দ্বীপ জানান, রাতের খাবার শেষে দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে করে বের হন। উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় এসে তিনি একদিকে চলে যান, আর তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান। রাত ১২টার দিকে তাদের আলাদা হওয়ার কথা জানান তিনি।

দ্বীপের দাবি, সেদিন তাহসিফের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি। খাবার খাওয়ার সময় তাহসিফের এক বন্ধু ফোন করেছিলেন বলে মনে পড়ে তার। তবে কথাবার্তা ছিল স্বাভাবিক।

ফোন বন্ধ পাওয়ার দাবি দ্বীপের

তুলে নেওয়া হলো তাহসিফ সৌরির ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে, মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়?

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে এসে দেখা করেন দীপ। সেখানে তারা পরস্পর হাত মেলান এবং এর কিছুক্ষণ পরই দুটি আলাদা মোটরসাইকেল নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে বেরিয়ে যান।

তাহসিফের পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যায় দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এর পর থেকেই আর তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। পরবর্তীতে দীপের দাবি ছিল—তাহসিফের মোটরসাইকেলে কারিগরি ত্রুটি থাকায় তারা দুজন একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। সেখানে মেরামতের কাজ শেষে তারা বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান এবং খাওয়া শেষে দীপ নিজের গন্তব্যে ফিরে যান। তবে তাহসিফের এই আকস্মিক নিখোঁজ ও নদী থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শেষ সময়ে থাকা দীপের কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে জোরালো সন্দেহ দানা বেঁধেছে।

 

দ্বীপ জানান, নিজের বাসায় পৌঁছে তাহসিফকে ফোন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পান। রেস্তোরাঁয় তাহসিফ তার পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে ফোন চার্জ দিচ্ছিলেন। এ কারণে ফোনের চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করেছিলেন দ্বীপ। পরদিন সকালে আবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি।

তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কাউকে সন্দেহ করেন কি না, জানতে চাইলে দ্বীপ বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে সন্দেহ করার মতো অবকাশ তার নেই। পরিচয়ের পর থেকে তাহসিফের সঙ্গে এমন কোনো কথোপকথন হয়নি, যা থেকে কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করতে পেরেছিলেন তিনি।

দ্বীপ বলেন, ‘বাকি ১০ জন যেমন রহস্যের মধ্যে আছে, আমিও একদম একই রহস্যের মধ্যে আছি।’

অবসর প্রদান ও  বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নিয়ে যা বলেছিলেন লেফটেন্যান্ট তাহসিন সৌরী।

তিন মাস আগে একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ওই সাক্ষাৎকারে বলেন “আমি যদি ভিডিওটি করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি, মানে হোয়াট ইজ দ্যা প্রুভ দে আর হ্যাভিং (তাদের কাছে কী প্রমাণ আছে?), আমি এটা জিজ্ঞেস করতে পারি। আর এটাও হতে পারে যে, এজন্যই আজকে আমি হয়তো এয়ারফোর্সে নেই ” ।

 

পত্রিকার প্রতিবেদন , আইএসপিআর এর প্রতিবাদ 

২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় তার দেশ ছাড়ার মুহূর্ত দাবি করে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি কে বা কারা ছড়িয়েছিল সেই প্রশ্নও সামনে এসেছিল।

পরবর্তিতে ওই ভিডিও ধারণ করা বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুই কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ওই দুই কর্মকর্তার একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি।

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছিল পত্রিকাটির ওই প্রতিবেদনে।

যদিও এই সংবাদের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৪ অগাস্ট বাংলাদেশের গণমাধ্যমে একটি প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছিল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর। যেখানে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বিভ্রান্তিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নামক দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসর প্রদান করা হয়েছে।

 

নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসায় যোগাযোগ

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল জানিয়েছিলেন, তার ছেলে সম্প্রতি নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সেই কাজ দেখাশোনা করতেন দ্বীপ।

এ বিষয়ে দ্বীপও তাহসিফের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকার কথা স্বীকার করেন। তার ভাষ্য, ব্যবসা নিয়ে পরিচিতদের মধ্যে ব্যক্তিগত মনোমালিন্য হতে পারে। তবে বিষয়টি তেমন বড় কিছু ছিল না।

তাহসিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দ্বীপের পরিচয় ছিল। তার বাবা-মা একবার তাহসিফদের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা।

ছোট ভাইকে দেখে রাখার কথা বলতেন তাহসিফ

দ্বীপ জানান, তাহসিফ মাঝেমধ্যে তাকে বলতেন, তিনি না থাকলে যেন তার ছোট ভাইকে দেখে রাখেন। তবে কেন তাহসিফ এমন কথা বলতেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।

শেখ হাসিনা  দেশত্যাগ নিয়ে তাহসিফের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে দ্বীপ বলেন, বিষয়টি তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এ নিয়ে তাহসিফের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি।

দ্বীপ সম্প্রতি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করেছেন। তাহসিফের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মর্গ থেকে নেওয়ার সময় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান। এরপর থেকে পরিবারের উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে আর বাইরে বের হননি বলেও জানান তিনি।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দ্বীপের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর রাতের খাবারের পর দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর তাহসিফের সঙ্গে তার আর যোগাযোগ হয়নি। তবে সেদিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য তার জানা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।

‘দুই বালক দৌড়ে এসে জানায় নদীতে লাশ ভাসছে’—তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান

গতকাল বুধবার বেলা ৩টা তখন। তুরাগ নদের উত্তরখান থানার রাজাবাড়ি ঘাটে বেশ কয়েকজন মাঝি অলস সময় পার করছিলেন নৌকায়। হঠাৎ দুজন বালক দৌড়ে এসে তাঁদের জানায়, নদী দিয়ে মরদেহ ভেসে যাচ্ছে। এ খবর শোনার পরপরই ডাক-চিৎকার শুরু করেন ঘাটের মাঝিরা।

এরপর খবর পেয়ে গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ।

টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফিরোজ উদ্দিন জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে তুরাগ নদের উত্তরখান থানার রাজাবাড়ি ঘাট এলাকায় একটি মরদেহ ভেসে থাকার খবর পায় টঙ্গী নৌ পুলিশ। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক নৌ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজ্ঞাতনামা (২৮) হিসেবে তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। নিহতের পরনে সাদা পায়জামা ও কালো জামা। মুখে হালকা দাঁড়ি, হাতে ঘড়ি ও পকেটে একটি আই ফোন পাওয়া যায়। মরদেহের সঙ্গে থাকা আই ফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁর পরিচয় জানা যায়।

তুরাগ নদে ভেসে ওঠে মরদেহ

নিখোঁজের পরদিন তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

এর আগে নিখোঁজের পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে মরদেহের হাতে থাকা বিশেষ ঘড়ি এবং প্যান্টের পকেটে পাওয়া আইফোনের সূত্র ধরে স্বজনেরা নিশ্চিত করেন যে এটি নিখোঁজ সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি।

মরদেহ উদ্ধারের পরদিন বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাহসিফকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই গভীর রহস্য ও ধোঁয়াশা কাটেনি। লাশ উদ্ধারের সময় তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং পেট অস্বাভাবিক ফোলা ছিল। নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম সরাসরি সন্দেহ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পিবিআই দীপকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করায় মৃত্যুর নেপথ্যের আসল রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমার ছেলেকে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়েছে: সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের বাবা

আমার ছেলেকে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়েছে: সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের বাবা

পরিবারের সঙ্গে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়েছে, সে আত্মহত্যা করেনি।’

আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা তিনি বলেন।

কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমার ছেলে স্ট্রং পার্সোনালিটি ছিল। সে একটি বাহিনীতে চাকরি করত। সে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় নিয়ে ফেলা হয়েছে।’

ঘটনার দিন ২৭ অক্টোবর সারা দিন তাহসিফ তাঁর মায়ের সঙ্গেই ছিল বলে জানান এনায়েতুল করিম। তিনি বলেন, ‘তার (তাহসিফ) মাকে নিয়ে শপিং করেছে, আমার জন্য কেনাকাটা করেছে।

‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দিপ নামে একজন তাকে ডাকলে সে তার মাকে বলে—আমি দিপের সাথে কথা বলে আসি। এরপরে আর ফিরে আসেনি। তারপর ওর মা একাধিকবার ব্যক্তিগত নম্বরে কল দেয়। কিন্তু তাকে লাইনে পাই না। পরে সর্বশেষ রাত ১টার পর তার মাকে মেসেজ করে, আম্মু আমি বাসায় আসতেছি।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল দুপুরের দিকে তুরাগ থানায় গিয়েছিলাম। তারা বলে এখনো কোনো খোঁজখবর নেই। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দক্ষিণ থানায় থেকে কল আসে। ওসি সাহেব আমার এবং ছেলের নাম-পরিচয় শুনে নিশ্চিত হওয়ার পর বলেন তুরাগ নদীতে একটি ডেড বডি পাওয়া গেছে।

‘ভাটিপাড়াতে গিয়ে সামনে রাজাবাড়ি ঘাট। ওই এলাকায় আমার ছেলে কখনোই যায় না। তারপরও এই ঘটনা ঘটে গেল।’

কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘কে বা কারা হত্যা করেছে, এটা আমরা জানি না। এটা পুলিশ তদন্তে বের হবে।’

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের বিমানবাহিনীতে চাকরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু বাহিনী থেকে কী ধরনের ডিসিপ্লিন বা কোন ডিসিপ্লিনের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে—সেটা জানানো হয়নি। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং নেত্র নিউজে চাকরি করত।

‘সবশেষ ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডে চাকরি করত। সে খুবই নম্র-ভদ্র এবং সামাজিক প্রকৃতির ছেলে ছিল। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।’

তাহসিফ সৌরির লাশ উদ্ধার: তদন্তের আগে মন্তব্য করবেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির লাশ উদ্ধারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত ও মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়া তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন না বলে জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিন একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের ব্যাপারে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত হোক। মরদেহের ময়নাতদন্ত হোক। তারপর কথা বলা যাবে। তদন্ত ছাড়া আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।’