• ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সাজেকে নবম দিনের মতো সড়ক অবরোধ, সেনাক্যাম্প পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২৬
সাজেকে নবম দিনের মতো সড়ক অবরোধ, সেনাক্যাম্প পরিদর্শনে সেনাপ্রধান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে নবম দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।

অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে পর্যটন কার্যক্রম স্থবির হওয়ার পাশাপাশি সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম গ্রামগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সেখানে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সেনাক্যাম্প পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বাঘাইহাট জোনের সেনাক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান মোতায়েনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাসদস্যদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।

সফরকালে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া এবং সেনাসদর ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২২ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, উজোবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ, সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার, হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ, সাজেক থেকে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ ছাড়া আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবিও জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

গত ২২ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে স্থানীয় সংগঠন দুটির ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অবরোধকারী ও দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের দেওয়া পূর্বের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর আন্দোলন শুরু করে সংগঠন দুটি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। পরে ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেয় তারা।

অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েন ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক। গত ২২ অক্টোবর সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পর্যটকদের গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বহরটি সাজেকের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড দেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পথ আটকে দেন। দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও অবরোধকারীরা পথ ছেড়ে না দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় উদ্যোগ নেওয়া হলেও একটি দাবি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার করা যায়নি।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

তবে সাজেক এলাকা থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আলোচনা আটকে যায়। ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের পথও তৈরি হয়নি।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, বর্তমানে এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।