• ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন : টেকসই কৃষি উন্নয়নে উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণার বিকল্প নেই

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ২৯, ২০২৬
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন : টেকসই কৃষি উন্নয়নে উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণার বিকল্প নেই
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান :  টেকসই কৃষি উন্নয়ন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব প্ল্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বিএসপিএসটি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছেত মিয়া।

তিনি বলেছেন, গবেষণাগারের জ্ঞানকে কৃষকের মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলেই গবেষণার প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী বিএসপিএসটির পঞ্চম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএসপিএসটি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘টেকসই কৃষির জন্য প্ল্যান্ট সায়েন্স ও প্রযুক্তি: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’।

গুণী শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছেত মিয়া বলেন, টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষণা ও প্রযুক্তিকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। গবেষণার অর্জন তখনই সার্থক হবে, যখন তা কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশের সুরক্ষা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখবে।

আয়োজকদের তথ্যমতে, বাংলাদেশসহ ১২টি দেশের প্রায় ৩৫০ জন গবেষক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও পেশাজীবী এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে ২০টি কারিগরি অধিবেশনে মোট ২৬৫টি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। মৌখিক ও পোস্টার উপস্থাপনা, আমন্ত্রিত বক্তাদের বক্তব্য এবং ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার ফলাফল বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শফি উল্লাহ মজুমদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক আমির হামজা গাজালী। তিনি উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে গবেষণার সম্ভাবনা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ছাড়া ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শফিক শহীদ একটি কারিগরি অধিবেশনে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উদ্ভিদবিজ্ঞান ও কৃষি গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান। তাঁদের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে এবং বাংলাদেশের কৃষিকে অধিক উৎপাদনশীল, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল করে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছেত মিয়া বর্তমানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব প্ল্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বিএসপিএসটি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।