ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কার মধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার কথা জানিয়েছে তেহরান। যেকোনো ধরনের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানি বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন বাহিনী ইরানে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ-এর কাছে নিজের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরে ইয়াদোল্লাহ বলেন, “শত্রুরা যে পরিকল্পনাই করুক আমাদের সেনাবাহিনী যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।”
বিপ্লবী গার্ডের এ শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, এবার আর কোনো আকস্মিক আগ্রাসনের মুখে পড়ে ইরান অপ্রস্তুত থাকবে না। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো আঘাত এলে কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে দাবি করে কড়া সতর্কবার্তা দেন ইয়াদোল্লাহ। তিনি বলেন, “শত্রুরা যে অঞ্চলে প্রবেশের চেষ্টা করবে, হোক সেটি বিমান হামলা চালিয়ে বা সীমান্ত অতিক্রম করে সেটি তাদের জন্য ‘হত্যার ময়দান’ হয়ে উঠবে।”
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই ইরানে স্বল্পমেয়াদি অথচ অত্যন্ত তীব্র মাত্রার সামরিক আঘাত হানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন বাস্তবতায় ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামলার সূচনা যুক্তরাষ্ট্র করতে পারলেও সেই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটবে তাদের নিজেদের শর্তে; অর্থাৎ আঘাত হেনে ওয়াশিংটনের নির্বিঘ্নে সরে পড়ার কোনো সুযোগ রাখা হবে না।