• ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

বিজিএমইএর তথ্য : শ্রমিক কথিত অসন্তোষে ৫২৯ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা , জরুরি বৈঠক শেষে সরকারের কঠোর বার্তা

Usbnews.
প্রকাশিত নভেম্বর ১, ২০২৬
বিজিএমইএর তথ্য  : শ্রমিক কথিত  অসন্তোষে ৫২৯ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা , জরুরি বৈঠক শেষে সরকারের কঠোর বার্তা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

চলমান শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৫২৯টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময়ে কাজ না করে কারখানা থেকে বেরিয়ে গেছেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, রোববার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে খোলা ছিল ১ হাজার ৮১৬টি।

বিজিএমইএর তথ্য বলছে, ডিএমপি এলাকার মিরপুরে ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৮টি কারখানার শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে যান। এ এলাকায় এমন শ্রমিকের সংখ্যা ৫১ হাজার ৬২৫ জন। গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২৭৬টির শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে যান। এ দুই এলাকায় এ সংখ্যা ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ জন।

অন্যদিকে সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ১৮৫টির শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে যান। এই এলাকায় কাজ না করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ২০৫ জন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ১৯৭টি এবং চট্টগ্রাম এলাকায় ৩৪০টি কারখানার তথ্যও দিয়েছে বিজিএমইএ। তবে এসব এলাকায় কাজ না করে বেরিয়ে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

বিজিএমইএর সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, সংগঠনটির অধীনে সব মিলিয়ে কারখানা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে খোলা ছিল ১ হাজার ৮১৬টি। আর এসব কারখানার মধ্যে সোমবার শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ হয়ে যায় ৫২৯টি।

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে জরুরি বৈঠক শেষে সরকারের কঠোর বার্তা

তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল রাখা এবং সামগ্রিক জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে একটি মহল পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন ও পোশাক খাতের অস্থিরতা মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে রোববার সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এতে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার বেলা ১টার দিকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দুই দিন আগেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে মজুরি বোর্ডের জন্য শ্রমিক প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করতে মন্ত্রণালয়ের কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে সামান্য বিলম্ব হয়।