• ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

দাঁড়িয়ে নাকি বসে প্রস্রাব—পুরুষদের জন্য কোনটি ভালো? গবেষণায় মিলল উত্তর

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৩১, ২০২৬
দাঁড়িয়ে নাকি বসে প্রস্রাব—পুরুষদের জন্য কোনটি ভালো? গবেষণায় মিলল উত্তর
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

প্রস্রাব করার সময় পুরুষদের দাঁড়িয়ে থাকা ভালো, নাকি বসে থাকা উচিত? দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে প্রস্রাব করার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই। দুই অবস্থানেই প্রস্রাবের প্রবাহের হার, মোট নির্গত প্রস্রাবের পরিমাণ এবং মূত্রথলি খালি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় একই ফল পাওয়া যায়।

সম্প্রতি ‘নিউরোইউরোলজি অ্যান্ড ইউরোডাইনামিসক’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। কলম্বিয়ান ইউরোলজি রিসার্চ গ্রুপের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ৫২ জন সুস্থ পুরুষ অংশ নেন।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বসে ও দাঁড়িয়ে দুই অবস্থায় প্রস্রাব করতে বলা হয়। তাঁদের একাংশকে প্রথমে বসে, পরে দাঁড়িয়ে এবং অন্য অংশকে প্রথমে দাঁড়িয়ে, পরে বসে প্রস্রাব করতে দেওয়া হয়। দুই পরীক্ষার মধ্যে অন্তত ২৪ ঘণ্টার বিরতি রাখা হয়, যা গবেষণায় ‘ওয়াশআউট পিরিয়ড’ হিসেবে পরিচিত। প্রতিবার প্রস্রাবের সময় সর্বোচ্চ প্রবাহের হার এবং মোট নির্গত প্রস্রাবের পরিমাণ পরিমাপ করেন গবেষকেরা। ফলাফলে দেখা যায়, প্রস্রাবের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে এসব সূচকে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য তৈরি হয়নি।

গবেষকদের ভাষ্য, সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অবস্থান সর্বোচ্চ প্রস্রাব প্রবাহের হার বা মোট নির্গত প্রস্রাবের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না। তবে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার সময় সর্বোচ্চ প্রবাহের গতিতে পৌঁছাতে সামান্য বেশি সময় লাগে। পরিসংখ্যানগতভাবে এ পার্থক্য তাৎপর্যপূর্ণ হলেও একটি ব্যতিক্রমী ফলাফলের ওপর তা আংশিকভাবে নির্ভরশীল। ফলে চিকিৎসাগতভাবে এর বিশেষ গুরুত্ব নেই বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

এর আগে, বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছিল, প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া কিংবা নিম্ন মূত্রনালির সমস্যায় আক্রান্ত পুরুষদের জন্য বসে প্রস্রাব করা বেশি উপকারী হতে পারে। বসে প্রস্রাব করলে পেলভিক ফ্লোরের পেশি শিথিল হয় এবং মূত্রথলি তুলনামূলক ভালোভাবে খালি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে কিছু গবেষণায় ৫০ বছর বা তার কম বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে বসে প্রস্রাবের পর কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব ঝরে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

এর আগে, ২০২৩ সালে সাত হাজারের বেশি পুরুষের ওপর পরিচালিত এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ শতাংশ পুরুষ বসে প্রস্রাব করেন। জার্মানিতে এ হার প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে দেশটিতে বসে প্রস্রাব করার অভ্যাস বোঝাতে ব্যবহৃত একটি জার্মান শব্দ কখনো কখনো অপমানসূচক অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সংস্কৃতিতে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার বিষয়টি সামাজিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত হলেও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে এ দুই অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালে দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মূত্রথলির শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম নিয়ে গবেষণাকারী ক্রিশ্চিয়ান মোরো ও শার্লট ফেলপস জানান, দাঁড়িয়ে কিংবা বসে প্রস্রাব করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সময়, প্রস্রাবের প্রবাহের হার এবং মূত্রথলি কতটা খালি হচ্ছে, সেসব বিষয়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। প্রস্রাবসংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকলে পুরুষেরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো অবস্থানে প্রস্রাব করতে পারেন। তবে দাঁড়িয়ে প্রস্রাবের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ২০২০ সালে প্রায় ২০০ পুরুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, যাঁরা বসে প্রস্রাব করতে পছন্দ করেন, তাঁদের মধ্যে মূত্রনালিসংক্রান্ত উপসর্গের কথা জানানোর প্রবণতা বেশি। তবে গবেষকেরা মনে করেন, বসে প্রস্রাব করার কারণে এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং আগে থেকেই প্রস্রাবের সমস্যা থাকায় কেউ কেউ বসে প্রস্রাব করতে পারেন।

৫০ বছর বয়সের পর অনেক পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যায়। এতে মূত্রনালি সংকুচিত হয়ে প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ইউরোলজিস্ট রেনা মালিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত পুরুষদের প্রস্রাবের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হতে পারে এবং প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা ও লক্ষ্য ঠিক রাখা কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বসে প্রস্রাব করা পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে সুবিধাজনক হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যাগুলো তাত্ত্বিক বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এর আগে ২০১৪ সালে ১১টি গবেষণার ফলাফল নিয়ে পরিচালিত এক মেটা-বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিম্ন মূত্রনালির উপসর্গে আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে বসে প্রস্রাব করলে মূত্রথলি তুলনামূলক বেশি খালি হতে পারে। তবে সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে দুই অবস্থানের মধ্যে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। ওই গবেষণাগুলোর নমুনা তুলনামূলক ছোট ছিল এবং বসে ও দাঁড়িয়ে প্রস্রাবের পরীক্ষার ক্রমও এলোমেলোভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

সাম্প্রতিক গবেষণার লেখকেরা বলছেন, আগের অনেক গবেষণায় কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হলেও আনুষ্ঠানিক সমতুল্যতা বিশ্লেষণ করা হয়নি। ফলে গবেষণার তথ্য যতটুকু সমর্থন করে, অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি জোরালো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

নতুন গবেষণায় আগের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষকদের উপসংহার, সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের অবস্থান ইউরোফ্লোমেট্রি পরীক্ষার ফলাফলে বাস্তবিক অর্থে খুব সামান্য প্রভাব ফেলে। তাই প্রস্রাবসংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকলে পুরুষেরা নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী বসে কিংবা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে পারেন।