• ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

গাজায় পঙ্গুত্ব বরণ করা ১১৩৪ শিশুর চিকিৎসায় ইসরায়েলি বাধা, মারাত্মক ঝুঁকিতে জীবন

Usbnews.
প্রকাশিত নভেম্বর ৫, ২০২৬
গাজায় পঙ্গুত্ব বরণ করা ১১৩৪ শিশুর চিকিৎসায় ইসরায়েলি বাধা, মারাত্মক ঝুঁকিতে জীবন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অঙ্গহানির শিকার হওয়া ১ হাজার ১৩৪ শিশুর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর। সংস্থাটির দাবি, ইসরায়েলের ভ্রমণ ও সীমান্ত পারাপারে নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব শিশু বিদেশে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছে না।

গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এসব শিশুর হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা পাচ্ছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত গাজায় অঙ্গহানির শিকার ২ হাজার ৩০০ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ককে চিকিৎসার জন্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র ৫০০ জন স্থায়ী কৃত্রিম অঙ্গ পেয়েছেন।

ইউরো-মেডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় মাত্র আটজন সনদপ্রাপ্ত কৃত্রিম অঙ্গ ও অর্থোটিকস বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। এ ছাড়া কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির সরঞ্জাম আমদানি করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষকদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এসব শিশুর শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে কৃত্রিম অঙ্গের পরিবর্তন ও সমন্বয় প্রয়োজন হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং চলাফেরায় সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গাজায় আহত এক শিশুর বাবা সংস্থাটিকে জানান, তার ১১ বছর বয়সী ছেলে ইসরায়েলি কামানের গোলার আঘাতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি হাত হারিয়েছে। উন্নত চিকিৎসা ও কৃত্রিম অঙ্গের জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন হলেও সীমান্ত বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেছে, এ ধরনের পরিস্থিতি শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে ফেলছে।

প্রতিবেদন: আল-জাজিরা।