• ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া সত্বেও আওরঙ্গজেব সাধারণ মানুষের মত জীবন যাপন করতেন , নিজের সম্পত্তির একটা উইল তার প্রমান

usbnews
প্রকাশিত নভেম্বর ২৯, ২০১৩
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া সত্বেও আওরঙ্গজেব সাধারণ মানুষের মত জীবন যাপন করতেন , নিজের সম্পত্তির একটা উইল তার প্রমান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইতিহাসের কয়েকটি কয়েকটি কলম সন্ত্রাসের মধ্যে অন্যতম হলো বানোয়াট মিথ্যে কাহিনী রচনা করে প্রচার , প্রসার। সম্রাট আওরঙ্গজেব ও কলম সন্ত্রাস থেকে রেহাই পান নাই। অথচ তিনি কেমন ছিলেন সেটা লোকানোর চেষ্টা ফরমায়েশি ইতিহাস থেকেই জানা যায়। কিন্তু সত্য কখনো বেশিদিন লোকানো যায় না। নিজের সম্পত্তির একটা উইল তার প্রমান।

সম্রাট আওরঙ্গজেব নিজ হাতের লেখা কুরআন শরিফ বিক্রী এবং টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাষ্ট্র ও জাতির রাজকোষ থেকে নিজের জন্য অর্থ গ্রহণ করাকে তিনি বৈধ্য মনে করতেন না। টুপি ও কোরআন থেকে শেষ জীবনে মাত্র ‘আটশ পাঁচ টাকা’ সঞ্চয় করেন।

ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল। ১৯৫০ এর ১৫ ডিসেম্বরে মৃত্যু অবধি তিনি বসবাস করেন নয়াদিল্লির ১. আওরঙ্গজেব রোডের একটি ভবনে। এই রোডের নাম বা এখানে অবস্থান কারো মন বিক্ষুব্ধ করেনি।

 ভারতের রাজনীতিতে আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে কেন এমন প্রচারণা? যার মৃত্যু হয়েছে ৩০০ বছরেরও আগে! এ প্রশ্ন সঙ্গত। 

আওরঙ্গজেব কিংবা কোনো মোগল শাসক তরবারির মাধ্যমে ইসলামের প্রচারে কোনো চেষ্টা করেননি। বহু শতাব্দী ধরে তারা ভারত শাসন করেছেন। তাদের গোটা শাসনকালে মুসলিমরা সংখ্যালঘু থেকে গেছেন। ১৮৭১-৭২ সালে ব্রিটিশরা প্রথম আদমশুমারি করে ভারতে। তাতে দেখা যায়, ভারতে শিখসহ হিন্দুদের সংখ্যা ৭৩ শতাংশ, আর মুসলিমদের সংখ্যা ২১ শতাংশ। এটি স্পষ্ট করে যে, হিন্দুদের নিপীড়ন এবং নির্মূল করা মুসলিম শাসকদের কর্মপন্থা ছিল না। এমনটা হলে ভারত থেকে হিন্দুরা বিলুপ্ত হয়ে যেতেন।

সম্রাট আওরঙ্গজেব ৪৯ বছর ধরে ভারত শাসন করেছেন। তাঁর সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল ৪০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। বলতে গেলে, ভারতবর্ষের প্রায় সম্পূর্ণ এলাকা ছিল তার রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত। প্রজার সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৮০ লক্ষ।
আওরঙ্গজেব বছরে রাজস্ব আদায় করতেন ৪৫০ মিলিয়ন ইউ এস ডলার। ঐ সময়ে ফ্রান্সের সম্রাট ছিলেন চতুর্দশ লুই। লুই এর চেয়ে আওরঙ্গজেব এর রাজ্যে দশগুণ বেশি রাজস্ব আদায় হত।
তাঁর অধীনে ভারতবর্ষের অর্থনীতি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। ১৭০০ সালে তিনি ভারতবর্ষের অর্থনীতিকে ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেন। ভারতবর্ষের জিডিপি ছিল পুরো পৃথিবীর জিডিপির চার ভাগের এক ভাগ।১৭০৭ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান আওরঙ্গজেব ৮৮ বছর বয়সে নিজের সম্পত্তির একটা উইল তৈরী করলেন।

এছাড়া সম্রাট আওরঙ্গজেব নিজ হাতের লেখা কুরআন শরিফ বিক্রী এবং টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাষ্ট্র ও জাতির রাজকোষ থেকে নিজের জন্য অর্থ গ্রহণ করাকে তিনি বৈধ্য মনে করতেন না। টুপি ও কোরআন থেকে শেষ জীবনে মাত্র ‘আটশ পাঁচ টাকা’ সঞ্চয় করেন।

সম্রাট আওরঙ্গজেব এর স্বহস্তে লিখিত একটি উইল মৃত্যুর পর তাঁর বালিশের নিচে পাওয়া যায়। আহকাম-ই-আলমগীরীতে বর্ণিত উইল এর উল্লেখযোগ্য অসিয়ত নামার মধ্যে হলো:
(ক) আমার টুপি সেলাই এর ‘চার টাকা দুই আনা’ গচ্ছিত আছে, মহলদার আইয়া বেগ এর কাছে। এটা দিয়ে ক্রয় করো অসহায় এই জীবের কাফনের কাপড়।

(খ) কুরআন শরিফ (লিখিত কপির) বিক্রীর তিনশত পাঁচ টাকা রাখা আছে আমার থলিতে। আমার মৃত্যুর দিন ওটা বিতরণ করে দিও ফকিরদের মধ্যে। যেহেতু কুরআনের মাধ্যমে উপার্জিত টাকা শিয়ারা সুনজরে দেখেনা, ওটা যেন ব্যয় করোনা আমার কাফনের কাপড় কেনা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে।

(গ) আমার শবযান এর ওপর কফিনের মাথার দিকটা ঢোকো অমসৃণ মোটা ‘গজি’ নামের সাদা কাপড়ে।
(ঘ) ওর উপরে টাঙ্গিয়না সামিয়ানা।
(ঙ) বাতিল করো গায়কদের শোভাযাত্রা।

সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি

সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি

স্যার যদুনাথ সরকারের মতে, ‘ সম্রাট আরঙ্গজেব আর্থিক দুরবস্থার কারণে ইতিহাস লেখা বন্ধ করা হয়, ইহা সত্য বলে মনে হয় না।—তিনি বিশ্বাস করতেন যে, স্বীয় কৃতিত্ব ফলাও করে প্রচার করার চেয়ে, ধর্মীয় অনুশাসন পুরোপুরি মেনে চলাই শ্রেয়।’ এ থেকে বোঝা যায় দরবারী ইতিহাস লেখা কে তিনি রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপচয় মনে করতেন। সে কারণেই তিনি ইতিহাস লেখার প্রকল্প বন্ধ করে দেন। সম্রাট আরঙ্গজেব মুলত পূর্ণাঙ্গভাবে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার কারণের তার ব্যক্তি জীবনযাত্রা ছিলো অন্যান্য সম্রাটদের চেয়ে সম্পূর্ণই আলাদা। তিনি কুরআন হেফজ হবার পাশাপাশি একজন বিজ্ঞ আলেমও ছিলেন। একই সাথে তিনি আরবি-ফারসি, তুর্কীয়, হিন্দিসহ অন্যান্য আরও ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি ইসলামী শরিয়তের পরিপূর্ণ প্রবর্তনের লক্ষ্যে তিনি সাম্রাজ্যের মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে বড় ধরণের পরিবর্তন আনেন।

তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ তোলা হয় পিতার প্রতি রুক্ষ ব্যবহার করতেন।কিন্তু ইউরোপীয়ান ঐতিহাসিক বোর্নিয়ার বলেন, “শাহজাহানের বন্দী অবস্থায় আওরঙ্গজেব তাঁর প্রতি ভক্তি সম্মানজনক ব্যবহার করতেন। ওই সময়ে রাজ কার্জ্যে তিনি প্রত্যেক বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করিয়া কাজ করিতেন। এক স্বাধীনতা ব্যতীত পিতার সকল মনোরঞ্জন করেছেন। পরে পিতা অপরাধ মার্জনা করিয়া তাহাকে আশীর্বাদ করিতেও ইতস্ততঃ করেন নাই। তাঁর মৃত্যুর পর ভারতের মধ্যযুগীয় যুগ শেষ হয়। আর ইউরোপীয় আক্রমণ শুরু হয়। কারণে সম্রাট আওরঙ্গজেব সম্পর্কে ইংরেজ এবং হিন্দু বহু ইতিহাসবিদ সত্য ইতিহাসের বদলে মিথ্যা কাল্পনিক ইতিহাস রচনা করে গেছেন। ফলে সেই ইতিহাস অনেকেই ‘সত্যে’ বলে মনে করেন।

সম্রাট হওয়া সত্বেও আওরঙ্গজেব সাধারণ মানুষের মত জীবন যাপন করতেন। শাসক হিসেবে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের পদাংক অনুসরণ করতেন। যার একটি নমুনা পাওয়া যায় দরবারী ইতিহাস লেখা প্রকল্প বন্ধ করণের মধ্য দিয়ে। সম্রাট আরঙ্গজেব এর রাজত্বকালের দরবারী ইতিহাস হচ্ছে আলমগীর নামা। তিনি প্রথমে মিরজযা মুহাম্মদ কাজিমকে তাঁর রাজত্বকালের ইতিহাস লেখার আদেশ দেন এবং তিনি সম্রাটের রাজত্বকালে প্রথম দশ বৎসরের ইতিহাস লিখেন। যার নাম ‘আলমগীর নামা’। যা ১১০৭ পৃষ্ঠা সম্বলিত বিশাল আকারের একটি বই। রাজত্বের প্রথম ১০ বছরের ইতিহাস লিখিত হবার পর (সমাপ্ত ১৬৭০ খ্রিষ্টাব্দ) সম্রাট আওরঙ্গজেব মিরজযা মুহাম্মদ কাজিমকে ইতিহাস লিখতে নিষেধ করেন এবং এক পর্যায়ে ইতিহাস লিখার প্রকল্পই বন্ধ করে দেন।”
কারণ এতে জনগণের দেয়া খাজনা অযথা নষ্ট হচ্ছে সেটাই ছিল তার চিন্তা।

বিজেপির ভারতে আওরঙ্গজেবকে ঘৃণা করতেই হবে। মহিমান্বিত করতে হবে শিবাজিকে। ফডনবিস বলেছেন, মহারাষ্ট্র শিবাজির। আওরঙ্গজেবকে মহিমান্বিত করা হলে বরদাশত করা হবে না। কিন্তু শিবাজির নিষ্ঠুরতা কি ইতিহাস থেকে মোছা যাবে? নেহরু তার ‘Discovery of India’-তে শিবাজিকে ঠিকই ‘ডাকাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। শিবাজি বিভিন্ন শহরে নির্মমতার প্লাবন বইয়ে দিয়েছেন, এটি তার অনুরাগীরাও স্বীকার না করে পারেননি। ১৬৬৪ সালে (জানুয়ারি) প্রথম সুরাট লুণ্ঠনের একটি বিবরণ শোনা যাক: যে তিন দিন শিবাজি সুরাট নগরে ছিলেন, সেই তিন দিন এমন কোনো পাশবিক কাজ নেই, যা তার দল করেনি। লুটপাট, ঘরে আগুন দেয়া, হাজার হাজার মানুষের হাত কেটে দেয়া, মাথা কেটে দেয়া, নারীদের ওপর চরম নির্যাতনে সুরাট অধিবাসীর কান্না যেকোনো মানুষকেই ব্যথিত করে তোলে। (জে সি দে, শিবাজিজ সুরাট এক্সপিডিশন অব ১৬৬৪, ইন্ডিয়ান কালচার’, এপ্রিল ১৯৪০।)

 

১৬ শতক থেকে নিয়ে ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়কাল অবধি কেবল পশ্চিম পাঞ্জাব ছাড়া সমগ্র ভারতের ভূমিতে উচ্চতর অধিকার প্রধানত হিন্দুদের হাতে ন্যস্ত ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সুবিধা ভোগ করতেন রাজপুতগণ। এটি ঐতিহাসিক তারা চাঁদের উপসংহার। ১৯৬১ সালে ভারত সরকারের প্রকাশনা বিভাগ থেকে প্রকাশিত হিস্টোরি অব দি ফ্রিডম মুভমেন্ট ইন ইন্ডিয়া গ্রন্থে (খণ্ড-১, পৃ. ১২৪) এ সত্য তিনি স্বীকার করেছেন।

মোগল আমলের কর্মকর্তাদের তালিকা ও পরিচিতিমূলক অভিধান। গ্রন্থটির নাম মাসিরুল উমারা। গ্রন্থটি লেখেন শাহনওয়াজ খান এবং তার পুত্র আবদুল হাই। ১৭৪১ সালের আগস্ট থেকে ১৭৮০ সাল অবধি গ্রন্থটি রচনায় তারা নিয়োজিত ছিলেন। ২৭০০ পৃষ্ঠার ফার্সি গ্রন্থটিতে ১৫৫৬ থেকে ১৭৮০ সাল এর মধ্যবর্তী ৭৩৪ জন মোগল কর্মকর্তার বিবরণ রয়েছে। বইটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং এশিয়াটিক সোসাইটি এটি প্রকাশ করে তিন খণ্ডে, ১৮৯৬ সালে মির্জা আশরাফ আলীর সম্পাদনায়।

গ্রন্থটি দেখায় মোগল শাসকরা প্রায় ৩৬৫টি উচ্চপদে কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। যার মধ্যে ১০০টি প্রধানত রাজপুত। যারা মূলত ছিলেন রাজপুতানা, মধ্যভূমি, বুন্দেলখণ্ড এলাকার। রাজপুতদের প্রায় সমান কর্মকর্তারা ছিলেন ব্রাহ্মণবংশীয়। ফলে আওরঙ্গজেব বা অন্যান্য মোগল শাসকের শাসনের স্থানীয় প্রতিনিধি যারা ছিলেন, তারা মূলত উচ্চবংশীয় এমন হিন্দু, যাদের বংশধরদের অনেকেই এখন আওরঙ্গজেবদের অপরাধী হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চায় এবং কল্পিত সেই অপরাধের প্রতিশোধ নিতে চায় মুসলমানদের ওপর!

 

সম্রাট আওরঙ্গজেব সাম্রাজ্যের সীমানা বহুদূর বিস্তার করে দক্ষিণাঞ্চলে ৪ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি ১৫৮ মিলিয়ন প্রজাকে শাসন করতেন। তাঁর সময় সাম্রাজ্যের বাৎসরিক করের পরিমাণ ছিল ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। যা তার সমসাময়িক চতুর্দশ লুইয়ের আমলে ফ্রান্সের বাৎসরিক কর এর চেয়ে ১০ গুণ বেশি ছিল। তাঁর সময় ভারত চীনকে ছাড়িয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে গড়ে উঠেছিল। যার পরিমাণ ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলার। যা ১৭০০ সালে সমগ্র পৃথিবীর জিডিপি’র এক চতুর্থাংশ। ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় তার শাসনামলে সমপরিমাণ রাজস্ব অন্যকোন সম্রাটের সময় হয়নি। এমনকি তিনি ৪ কোটি পাউন্ড অর্থাৎ ৬০ কোটি টাকা মওকুফ করে দেন। কিছু ঐতিহাসিক আওরঙ্গজেবকে শাসক হিসেবে “বিতর্কিত এবং সমালোচিত” করার চেষ্টা করেছেন। তার আমলে অনেক হিন্দু মন্দির ধ্বংস করা হয়েছিল প্রপাগান্ড চালানো হয়।

তবে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, তাঁর হিন্দু মন্দির ধ্বংসের বিষয়টি অতিরঞ্জিত। মার্কিন ইতিহাসবিদ (ইউনিভার্সিটি অব নিউয়ার্কে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস শিক্ষক) অড্রে ট্রাশকা তাঁর বই ‘আওরঙ্গজেব-“দ্যা ম্যান অ্যান্ড দ্যা মিথ’ বইয়ে লিখেছেন, “আওরঙ্গজেব হিন্দুদের ঘৃণা করতেন আর তাই মন্দির ধ্বংস করেছেন বলে যে দাবী করা হয়, তা ভুল”।

তিনি লিখেছেন,“ব্রিটিশদের শাসনের সময় তাদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ অর্থাৎ জনগোষ্ঠীকে ‘বিভাজন আর শাসন করো’ নীতির আওতায় ভারতে হিন্দু বর্ণবাদী ধারণা উষ্কে দেয়ার কাজটি করেছিলেন যেসব ইতিহাসবিদরা, তারাই মূলত: আওরঙ্গজেবের এমন একটি ইমেজ তৈরির জন্য দায়ী”।

তিনি তাঁর বইয়ে আরও বলেন,“ আওরঙ্গজেব’র শাসন যদি ২০ বছর কম হতো, তাহলে হয়তো আধুনিক ইতিহাসবিদরা তাকে অন্যভাবে দেখতেন।

 

তথ্য সূত্র:

মুঘল ভারত-শ্রী যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত প্রণীত-শিশির পাবলিশিং; হাউস১৯৭ নং কর্ণ ওয়ালিস্ স্ট্রীট, কলিকাতা পাতা-৯৮।

আওরঙ্গজেব : চরিত্র-বিচার- আল্লামা শিবলী নো’মানী: হাসান আলী আনূদিত, বাংলা একাডেমী, ঢাকা-প্রথম প্রকাশ: মে-১৯৬৯। পাতা: ৬৮।

সম্রাট আওরঙ্গজেবের ভিতর বাহির-জয়নাল হোসেন; পৃষ্ঠা: ১১৪। অ্যাডর্ন পাবলিকেশন-ফেব্রুয়ারী ২০১৩। আই এস বি এন:৯৭৮-৯৮৪-২০-০৩২১-৯।

হিস্টোরি অব দি ফ্রিডম মুভমেন্ট ইন ইন্ডিয়া গ্রন্থে (খণ্ড-১, পৃ. ১২৪)

মাসিরুল উমারা। গ্রন্থটি লেখেন শাহনওয়াজ খান এবং তার পুত্র আবদুল হাই

সম্রাট আওরঙ্গজেবের ভিতর বাহির-জয়নাল হোসেন; পৃষ্ঠা: ৭১। অ্যাডর্ন পাবলিকেশন-ফেব্রুয়ারী ২০১৩। আই এস বি এন:৯৭৮-৯৮৪-২০-০৩২১-৯।