এবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দলে টানছে জান্তা। সেনাবাহিনীর দল ভারি করতে ছাত্রদের ইউনিভার্সিটি ট্রেনিং কর্পসে (ইউটিসি) যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে। ইউটিসি থেকেই সাধারণত মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে জনবলের ঘাটতি পূরণ করা হয়।
বুধবার জান্তা নিয়ন্ত্রিত দৈনিক কাইমনের বরাত দিয়ে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংসহ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অনেক জেনারেলই ইউটিসি থেকে এসেছেন।
১৯২২ সালে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ইউটিসি গঠিত হয়। এটি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইউনিভার্সিটি অফিসার ট্রেনিং কর্পসের আদলে তৈরি। শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক জীবনে উদ্বুদ্ধ করাই ইউটিসির প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিরেক্টরেট অব মিলিশিয়া এবং বর্ডার গার্ড ফোর্সের পরিচালিত ইউটিসিতে শিক্ষার্থীদের চার বছরের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইয়াঙ্গুন, মান্দালে, মাওলামাইন, তাউংগি, নাইপিতাও, প্যাথেইন এবং টাউনগুতে ইউটিসি রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি স্টাফ এবং ইউটিসি ছাত্রদের উদ্ধৃত করে জান্তা সংবাদপত্র বলেছে, সংস্থাটি মৌলিক দক্ষতা শেখায়। পাশাপাশি দেশকে রক্ষা করার জন্য সামরিক বাহিনী কী করে তার পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করে। ইউটিসির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সংসদীয় স্পিকার টি খুন মায়াত, সাবেক অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল খিন জাও উ, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল সেইন উইন, জান্তা শান্তি আলোচক লেফটেন্যান্ট জেনারেল উইন বো শিন এবং আইয়ারওয়াদি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিন মং উইন।
মিয়ানমারে দল ভারির আপ্রাণ চেষ্টায়ও সেনা বাড়াতে পারছে না জান্তা। প্রতিনিয়ত অসংখ্য সেনা প্রাণ হারাচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছে।
বুধবার ইরাবতীর খবরে বলা হয়েছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের রামরি শহরে তিন দিনের হামলায় জান্তা বাহিনীর প্রায় ৮০ সেনা নিহত হয়েছেন। গোষ্ঠীটির দাবি, জান্তা বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলা সত্বেও শনিবার সংঘর্ষের সময় অন্তত ৬০ সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর সোমবার শহরটি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আরও ২০ সেনাকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত (দখলকৃত) ৭টি শহরে সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির আরেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট (পিএসএলএফ)। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যের এই শহরগুলোতে আগামী বছরের মধ্যে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পিএসএলএফ মূলত তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) রাজনৈতিক শাখা। এটি ১৯৯২ সালে থাইল্যান্ড সীমান্তে গঠিত হয়। ইরাবতীর প্রতিবেদন অনুসারে, টিএনএলএ মিয়ানমারের থ্রি ব্রাদারহুড এলায়েন্সের সদস্য। এই এলায়েন্সের অন্য সদস্যরা হচ্ছে- আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ)।
পালটাপালটি হামলার মধ্যেই মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলের কাওলিন শহর জ্বালিয়ে দিয়েছে জান্তা। স্থানীয়রা জানিয়েছে, সপ্তাহ দুয়েক আগে শহরটি পুনর্দখল করে নেয় জান্তা। পরে শহরটির প্রায় ৮০ শতাংশই জ্বালিয়ে দেয়। শহরটি গত ৬ নভেম্বর জান্তার কাছ থেকে দখলে নিয়েছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)। ১২ ফেব্রুয়ারি জান্তা এটি পুনরায় দখলে নিয়ে পরে এটি জ্বালিয়ে দেয়।