পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ওমর আইয়ুব খান। রোববার দেশটির জাতীয় পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন এমন মন্তব্য করেন তিনি। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
এদিনই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জয়লাভ করেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএলএম-এন) দলের সভাপতি শাহবাজ শরিফ।
জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে নবগঠিত জোট সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ওমর আইয়ুব খান। এই সরকারকে একটি ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসন হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এটি ছিল একটি ‘অন্যায্য নির্বাচনি অনুশীলন’। আমাদের যে আসন পাওয়া উচিত ছিল তা আমরা পাইনি। আর তাই স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন অবৈধ হয়ে গেছে। ‘
জোট সরকারের সদস্যদের ফরম-৪৭ এর ‘সুবিধাভোগী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ওমর আইয়ুব খান। বলেছেন, ‘ফরম -৪৫ অনুযায়ী ফল ঘোষণা করা হলে পিটিআই জাতীয় পরিষদে ১৮০টি আসন লাভ করতো। ‘
জাতীয় পরিষদের অধিবেসনে ওমর আইয়ুব খান নওয়াজ শরিফের দলকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘আপনি আমাদের কাছ থেকে আমাদের নির্বাচনি প্রতীক ছিনিয়ে নিয়েছেন। আপনি ফরম-৪৫ এর ফল ছিনিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু আমরা টিকে আছি। এবং ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ না নেওয়া পর্যন্ত আমরা টিকে থাকব। ‘
পাকিস্তানের ২৪ তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শাহবাজ শরীফ। রোববার জাতীয় পরিষদে ভোটাভুটিতে ২০১ ভোট পান তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিটিআই সমর্থিত সুন্নি ইত্তেহাদের প্রার্থী ওমর আইয়ুব খান পেয়েছেন ৯২ ভোট। পরে জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক শাহবাজকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
ফল ঘোষণার পর ওমর আইয়ুব শাহবাজকে জাতীয় পরিষদের লিডার অব দ্য হাউসের চেয়ারে বসার আমন্ত্রণ জানান।
রোববার জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ পিএলএমের জ্যাম কামালকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করেন। এরপরই জাতীয় পরিষদে শাহবাজ শরিফ ও ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান শুরু হয়।
এরপরই স্পিকার ৫ মিনিটের রিঙ বাজান যাতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যরা প্রস্তুত হতে পারেন। সংসদ সদস্যরা জাতীয় পরিষদে প্রবেশ করছে ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর স্পিকার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের নিয়ম সম্পর্কে বলেন।
স্পিকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর পদে দুজন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যারা শাহবাজকে ভোট দেবেন তারা ডান দিকে যান। যারা ওমর আইয়ুবকে ভোট দেবেন তারা বাম দিকে যান।
পরে সেখানে ভোটের রেকর্ড করা হয়। তবে এ সময় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে তার দলের এমপিরা অধিবেশন ত্যাগ করেন। তারা প্রধানমন্ত্রী পদে ঘোষণা দিয়ে ভোট বর্জন করেন।
বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির নেতা সরদার আখতার তার নিজের সিটে বসে থাকেন। তিনি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
ভোট শেষে স্পিকার ফল ঘোষণা করেন। এতে ২০১ ভোট পান শাহবাজ।
পাকিস্তানের ২৪ তম প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিএমএল-এনের সুপ্রিমো নওয়াজ শরিফের ভাই। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের চাচা।
রোববার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমপি) ভোটে জাতীয় পরিষদের নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শাহবাজ। এই পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ওমর আইয়ুব।
জাতীয় পরিষদের ভোটাভুটিতে শাহবাজ ২০১ ভোট পেয়েছেন। আর ওমর পান ৯২ ভোট। পাকিস্তানের সংবিধানে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী হতে হলে কোনো প্রার্থীকে পার্লামেন্টের ৩৩৬ সদস্যের মধ্যে ১৬৯ জনের ভোট পেতে হবে।
পর্যাপ্ত সংখ্যক ভোট পাওয়ায় নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন স্পিকার।