• ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

usbnews
প্রকাশিত মার্চ ১৫, ২০২৪
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত সোমবার ভারত জুড়ে এই নাগরিকত্ব আইন চালু হয়। এই সম্পর্কিত একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিএএ চালু করার কথা ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই আইন অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা অমুসলিম নাগরিকরা (হিন্দু শিখ খ্রিস্টান, জৈন, পার্সি, বৌদ্ধ) ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবেন। তবে মুসলিমদের বিষয়ে আইনে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আইনের মারপ্যাচে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন দেশটির অনেক মুসলিম নাগরিক। ভারতের বিরোধী দলগুলোর দাবি সিএএ অসাংবিধানিক। এই আইন প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছিল বিরোধীরা। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানালে উল্টো তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিরোধী দলগুলি। সেই ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন আইনে এমন কোন সংস্থানই নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘ভারতে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়াটা আমাদের সার্বভৌমত্বের অধিকার। এর সাথে কোন আপোষ করা যাবে না। সিএএ কোনভাবে ফেরত নেয়া হবে না।’ ‘সিএএ অসংবিধানিক’ বিরোধীদের এই দাবিকে নাকচ করে অমিত শাহ বলেন ‘তারা সবসময় আর্টিকেল ১৪ (সকলের জন্য সম অধিকার) এর কথা বলে। তারা ভুলে গেছে যে এই ধারায় দুটো উপধারা রয়েছে। সিএএ কোনভাবেই আর্টিকেল ১৪ কে লঙ্ঘন করে না। এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। কেবলমাত্র যারা ওই তিনদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে এসেছেন তাদের জন্য এই আইন। এটা সাংবিধানিকভাবে বৈধ। ভারতের শীর্ষ আদালতে এই আইনের উপরে কোন স্থগিতাদেশ নেই।’ সিএএ’এর সাথে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)র কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘এনআরসির সাথে সিএএ’এর কোন সম্পর্ক নেই। আসামসহ গোটা দেশে সিএএ চালু হচ্ছে। কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতের যে রাজ্যগুলোতে যেখানে নাগরিকদের জন্য দুটি বিশেষ অধিকার দেয়া রয়েছে, এইসব জায়গায় সিএএ আইন চালু হবে না।’

সিএএ-কে কেন্দ্র করে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বাম, আম আদমি পার্টিসহ বিরোধীরা তোপ দেগেছে বিজেপি সরকারকে। নিজ নিজ রাজ্যে যে তারা এই আইন কার্যকর হতে দেবেন না, সে কথাও জানিয়ে দিয়েছেন এই বিরোধীরা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘একটা মানুষেরও অধিকার কেড়ে নিতে দেব না। আপনাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত হতে দেব না।’

তিনি অভিযোগ করেছন ধর্মীয় মেরুকরণ করতে চাইছে বিজেপি।

সিএএ চালুর সময় নিয়ে বিরোধীরা যে প্রশ্ন তুলেছিলেন তা নিয়ে অমিত শাহ বলেন ‘২০১৯ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে এ কথা বলা ছিল যে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা নাগরিক ও তাদের সন্তানদের ভারতে স্বাগতম এবং নাগরিকত্ব দেয়া হবে।