• ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১১ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন-সংগ্রাম ও স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণের অন্যতম নিয়ামক শক্তি ছিলেন সিরাজুল ইসলাম খান

usbnews
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৭, ২০২৩
বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন-সংগ্রাম ও স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণের অন্যতম নিয়ামক শক্তি ছিলেন সিরাজুল ইসলাম খান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

গত ১৭ই ডিসেম্বর২০২৩, রোববার সন্ধ্যা ছয়টা নিউইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসে একটি সেন্টারে সিরাজুল আলম খান সৃতি পরিষদের উদ্দোগে এক সেমিনার অনুস্টিত হয়।সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক প্রফেসর ড.মহসিন পাটোয়ারী । সংগঠনের সদস্য সচিব শাহাব উদ্দীনের এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুফিয়ান এ খন্দকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক টিকানা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান ।

বিজ্ঞানে নিউক্লিয়াস বলতে যা বোঝায়, রাজনীতিতে তার রূপ হয়তো আলাদা। এটা এমন একটা প্রক্রিয়া, যাকে একজন বা একটি ছোট গ্রুপ সঞ্চালন করে, নিয়ন্ত্রণ করে। তখন থেকেই জানি, শেখ মুজিব হলেন আসল নেতা। তাঁর সবচেয়ে আস্থাভাজন শিষ্য হলেন সিরাজুল আলম খান। আমরা শেখ মুজিবকে বলি বঙ্গবন্ধু আর সিরাজুল আলম খানকে বলি সিরাজ ভাই। স্বাধীনতার পর তিনি কলকাতা থেকে ফিরে এলেন। তখন লক্ষ করলাম, অনেকেই তাঁকে ‘দাদা’ বলতে শুরু করেছে।

সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে স্নেহধন্য প্রভাবশালী ছাত্রনেতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু সরকার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার। তার রহস্যময় জীবন-কর্মকে রহস্যের চাদরে আবৃত রেখেই আজ তিনি চলে গেলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। জন্মেছিলেন ১৯৪১ সালের ৬ জানুয়ারি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলীপুর গ্রামে। বেশকিছু দিন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। নীরবে এক ধরনের অবহেলায় কাটল তার শেষ সময়টা। গণমাধ্যমও তার খবর নেয়নি, তার খবর তেমন একটা প্রকাশ করেনি।

সভায় বক্তব্য রাখেন  এডভোকেট মুজিবুর রহমান ,বীরমুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ,ডা: মুজিবুল হক ,লিগেল কনসালটেন্ট মুজিবুর রহমান ,আলী ইমাম শিকদার ,মোহাম্মদ হোসেন খান মঈনুদ্দিন নাসের ,মোর্শেদ আলম ,নাসির আলীখান পল ,অধ্যাপিকা হোসনে আরা বেগম ,জামন তপন ,সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন ,সাংবাদিক শহীদ রাজু,মোজাহিদ আনসারি ,,হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন ও মোশারফ খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।

বক্তারা বলেন , ছাত্ররাজনীতিতে সিরাজুল আলম খানের উত্থান ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের হাত ধরে। পঞ্চাশের দশকের শেষে ষাটের দশকের শুরুতে আওয়ামী বৃত্তের তরুণদের মধ্যে শেখ মুজিবের পরেই জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন তুঙ্গে।

১৯৬২ সাল থেকে তিনি ছাত্রদের সংঠিত করে স্বাধীনতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যেকে সামনে রেখে আব্দুর রাজ্জাক ,কাজী আরেফ সহ অন্যান্য নেতাদের নিয়ে তিনি নিউক্লিয়াস গঠন করেন।

তারই ধারা বাহিকতায় ৬৬ সালের ছয় দফা ৬৯ সনের গন অভ্যুত্থান ,এবং ছাত্র সমাজের এগারো দফার আন্দোলন ও ১৯৭০ সনের নির্রাচনে ছাত্র সমাজের অতুলনীয় ভূমিকার মাধ্যমে আন্দোলন জংগী রুপদিয়ে জয় বাংলা বাহিনী গঠন করেন।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছিলেন পাঁচজনের একটা টিম করলাম। কে এম ওবায়দুর রহমান, সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মণি, ফরিদপুরের আনিস আর আমি নিজে। রাত ১২টার পর বের হতাম। ধরা পড়লে স্ট্রেট ফাঁসি। কিন্তু নেতার নির্দেশে আমরা এটা করেছি। চাদর গায়ে দিয়ে সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন এমবাসির গেটের সামনে ফেলে দিয়ে চলে আসতাম।

তারই ধারা বাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুজিব বাহিনী গঠন করে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এই সমস্ত আন্দোলন ও সংগ্রামের রুপকার ,নেপথ্য নায়ক ছিলেন সিরাজুল আলম খান।

তাকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাস অসম্পুর্ন হবে। আজকের ইতিহাস বিকৃতির যুগে এই কথা গুলো জাতীর সামনে তুলে ধরতে হবে। স্বাধীনতার পর তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ গঠন করেছিলেন।

১৯৫৮ সালে। ম্যাথমেটিকসে। ফজলুল হক হলে রেসিডেন্ট হলাম। যে রুমে গেলাম, সেটা ছিল ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারির রুম। সারা ইস্ট পাকিস্তানের জেনারেল সেক্রেটারি। রফিকুল্লাহ চৌধুরী হলেন প্রেসিডেন্ট, আজহার আলী জেনারেল সেক্রেটারি। সেই রুমে আমি উঠেছি।

এটা ঠিক যে আমরা নিউক্লিয়াস তৈরি করেছিলাম। চিন্তাটা হয়েছিল ১৯৬২ সালে। ১৯৬৪ সালে তার একটা কাঠামো দাঁড় করানো হয়। সিরাজ ভাই রূপকার, বিষয়টা এমন নয়। আমাদের মধ্যে কাজ ভাগ করা ছিল। সিরাজ ভাই ছিলেন আমাদের থিওরেটিশিয়ান। আমি রিক্রুটিংয়ের কাজ দেখতাম। আরেফ ছাত্রলীগের মধ্যে আমাদের চিন্তার প্রসার ঘটাত। এরপর চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয় আবুল কালাম আজাদ। আমরা আঙুল কেটে রক্ত দিয়ে শপথ নিই, দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ব্যক্তিগত সুখ-সুবিধার পেছনে ছুটব না। বিয়ে করব না। আমাদের না জানিয়ে আবুল কালাম আজাদ স্কুলপড়ুয়া একটা নাবালিকাকে বিয়ে করলে আমরা তাকে বহিষ্কার করি। মুজিব ভাইকে সামনে রেখেই আমরা এটা শুরু করি। তিনিই আমাদের নেতা। এ ব্যাপারে তাঁকে আমরা কিছুটা জানিয়েছিলাম ১৯৬৬ সালে। ১৯৬৯ সালে তাঁকে ডিটেইল জানানো হয়।

নব গটিত দেশে বৃটিশের রেখে যাওয়া আমলাতান্ত্রিক সমাজের পরিবর্তন করে গরীব মেহনতী মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে একটি শ্রেণিহীন ও শোষনহীন সমাজ প্রতিস্টা করতে। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে ভূল ভ্রান্তি হয়েছে। তাইবলে তার দেশপ্রেম বা নেতৃত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলা অবান্তর।

একটি সাক্ষাৎকারের সিরাজুল আলম খান বলেছিলেন ১৯৫৮ সালে ম্যাথমেটিকসে ভর্তি হয় । ফজলুল হক হলে রেসিডেন্ট হলাম। যে রুমে গেলাম, সেটা ছিল ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারির রুম। সারা ইস্ট পাকিস্তানের জেনারেল সেক্রেটারি। রফিকুল্লাহ চৌধুরী হলেন প্রেসিডেন্ট, আজহার আলী জেনারেল সেক্রেটারি। সেই রুমে আমি উঠেছি।

দেশ স্বাধীনের আগের সিরাজুল আলম খান ছিলেন বিচক্ষণ, দূরদর্শী চিন্তার এক সৃজনশীল ছাত্রনেতা। বঙ্গবন্ধু তার অদ্বিতীয় নেতা। শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে পরিচালনা করছেন বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বে। ১৯৬২ সালের দিকে ছাত্রলীগের ভেতরে গড়ে তুলেছেন ‘নিউক্লিয়াস’। নেতৃত্বে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ। নিউক্লিয়াসের প্রধান কাজ আন্দোলন, সংগ্রামকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যাওয়া। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা নিয়ে যখন তর্ক-বিতর্ক চলছে, সিরাজুল আলম খান তখন দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন ৬ দফার পক্ষে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ছাত্রলীগ পালন করেছে অবিস্মরণীয় ভূমিকা। বঙ্গবন্ধুর ওপর চাপ তৈরি করেছেন যে, ৭ মার্চের ভাষণে যেন ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেওয়া হয়।

সেই সময়েই গোপনে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) গঠন করেছেন বলে জানা যায়। মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফ ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে জেনারেল উবানের অধীনে।

সিরাজুল আলম খান ছাত্রলীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ধারণা করা হয়, অনেক ক্ষেত্রেই ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির চেয়েও বঙ্গবন্ধু বেশি পছন্দ ও নির্ভর করতেন সিরাজুল আলম খানের ওপর। শেখ মনির সঙ্গে তার শীতল ও বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি অজানা ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থানকালীনও দ্বন্দ্ব চলমান থাকে, বৃদ্ধি পায়। স্বাধীনতার পর যা বড়ভাবে দৃশ্যমান হয়ে সামনে আসে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শেখ মনি ও সিরাজুল আলম খানের মতাদর্শ-পৃষ্ঠপোষকতা ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ পরস্পরবিরোধী অবস্থানে চলতে থাকে। ১৯৭২ সালে একই দিনে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ ২ জায়গায় সম্মেলনের ঘোষণা দেয়। ২ গ্রুপই সম্মেলন উদ্বোধন করাতে চায় বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে। বহু জল্পনা-কল্পনা, নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মনি সমর্থিত ছাত্রলীগের সম্মেলনে উপস্থিত হন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সিরাজুল আলম খানের বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের দৃশ্যমান সূচনা মূলত তখন থেকেই। যা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে, কখনো কমেনি।

দেশ স্বাধীনের আগের সিরাজুল আলম খান ছিলেন বিচক্ষণ, দূরদর্শী চিন্তার এক সৃজনশীল ছাত্রনেতা। বঙ্গবন্ধু তার অদ্বিতীয় নেতা। শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে পরিচালনা করছেন বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বে। ১৯৬২ সালের দিকে ছাত্রলীগের ভেতরে গড়ে তুলেছেন ‘নিউক্লিয়াস’। নেতৃত্বে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ। নিউক্লিয়াসের প্রধান কাজ আন্দোলন, সংগ্রামকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যাওয়া। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা নিয়ে যখন তর্ক-বিতর্ক চলছে, সিরাজুল আলম খান তখন দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন ৬ দফার পক্ষে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ছাত্রলীগ পালন করেছে অবিস্মরণীয় ভূমিকা। বঙ্গবন্ধুর ওপর চাপ তৈরি করেছেন যে, ৭ মার্চের ভাষণে যেন ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেওয়া হয়।

সেই সময়েই গোপনে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) গঠন করেছেন বলে জানা যায়। মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফ ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে জেনারেল উবানের অধীনে।

সিরাজুল আলম খান ছাত্রলীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ধারণা করা হয়, অনেক ক্ষেত্রেই ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির চেয়েও বঙ্গবন্ধু বেশি পছন্দ ও নির্ভর করতেন সিরাজুল আলম খানের ওপর। শেখ মনির সঙ্গে তার শীতল ও বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি অজানা ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থানকালীনও দ্বন্দ্ব চলমান থাকে, বৃদ্ধি পায়। স্বাধীনতার পর যা বড়ভাবে দৃশ্যমান হয়ে সামনে আসে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শেখ মনি ও সিরাজুল আলম খানের মতাদর্শ-পৃষ্ঠপোষকতা ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ পরস্পরবিরোধী অবস্থানে চলতে থাকে। ১৯৭২ সালে একই দিনে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ ২ জায়গায় সম্মেলনের ঘোষণা দেয়। ২ গ্রুপই সম্মেলন উদ্বোধন করাতে চায় বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে। বহু জল্পনা-কল্পনা, নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মনি সমর্থিত ছাত্রলীগের সম্মেলনে উপস্থিত হন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সিরাজুল আলম খানের বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের দৃশ্যমান সূচনা মূলত তখন থেকেই।

“৬৬ থেকে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পর মূলত তিনিই ছিলে ক্যাটালিস্ট। ৭০ এ জেল থেকে বেরিয়ে শেখ মুজিব জাতীয় নেতা হলেন তবে যে সাংগঠনিক বিস্তৃতি হলো তার মূল নায়ক ছিলেন সিরাজুল আলম খান। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তার এক ধরণের বলয় তৈরি হয়েছিলো তাকে কেন্দ্র করে। তারা স্বাধীনতার কথাও বলতো, সমাজতন্ত্রের কথাও বলতো। এ নিয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে বিবাদ হয়। শেখ মুজিব সিরাজুল আলমসহ তার আস্থাভাজনদের নিয়ে বিএলএফ গঠন করেছিলেন যাতে আরও শেখ মনি, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ”।

সিরাজুল আলম খান ছিলেন অন্তর্মুখী। সাধারণ মানুষকে একটা ধারণা দেওয়া হতো, তিনি প্রচারবিমুখ। এখন অবস্থা পাল্টেছে। অনেক বছর ধরেই তিনি তাঁর নিউক্লিয়াস-তত্ত্ব প্রচার করছেন, নিজে লিখছেন না। তবে ডিকটেশন দিয়ে অন্যদের দিয়ে লেখাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তাঁর উদ্যোগে ও প্রশ্রয়ে ছাপা হয়েছে অগুনতি বই, বেশির ভাগই আধা ফর্মা বা এক ফর্মার, সেখানে তুলে ধরা হচ্ছে ‘নিউক্লিয়াসের’ বিবরণ। এসব পুস্তিকায় তাঁর বয়ানটি পড়ে মনে হয়, এটা শুধু একটা প্রক্রিয়া ছিল না, এটা বাস্তবিক অর্থেই ছিল একটি সংগঠন, গোপন রাজনৈতিক দলের ভ্রূণ।

বিশ্বের কোন মানুষ ই ভূল ভ্রান্তির উর্ধে নয়।তিনি স্বাধীনতার পূর্বে যেমন বংগবন্ধুর একজন একনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত ছিলেন। স্বাধীনতার পর মতদ্বৈততা ও ভিন্ন দল করলেও বংগবন্ধুর সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়নি।

গরীব মেহনতী মানুষের মুক্তি গনতান্ত্রিক চর্চার জন্য ,বিভিন্ন শ্রেণী ওপেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব কারি দ্বীকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন ,সহ বিভিন্ন সময়ে তার চিন্তা ধারা নিয়ে তিনি মূল্যবান বইপত্র লেখে গেছে।

এই গুলো সংগ্রহের মাধ্যমে দেশ ও জাতীর স্বার্থে গবেষনা করার আহবান জানান।বর্তমান হিংসা বিদ্ধেশ , বিরাজনীতি করন ,ভোগের রাজনীতির যুগে মাওলানা ভাসানী।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সিরাজুল আলম খানের পরিচিতি ‘তাত্ত্বিক নেতা’ আর ‘রহস্য পুরুষ’ হিসেবে। স্বাধীনতা সংগ্রামের রাজনৈতিক প্রস্তুতিপর্ব থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পরেও তিনি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ।

আবার শেখ মুজিব সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম বিরোধী দল হিসেবে জাসদ গড়ে তোলা এবং সর্বশেষ সেনাবাহিনীতে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা গঠনের মতো ইতিহাসের নানা টালমাটাল ঘটনাপ্রবাহের সাথেও উঠে আসে সিরাজুল আলম খানের নাম। রাজনৈতিক দলের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না রেখেও কিভাবে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন রাজনীতির একজন নেপথ্য নিয়ন্ত্রকে।

১৯৪১ সালের ৬ই জানুয়ারি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সিরাজুল আলম খান, যিনি পরবর্তীকালে সুপরিচিত হয়ে উঠেন রাজনীতির একজন তাত্ত্বিক হিসেবে এবং যাকে তার কর্মী বা সমর্থকরা দাদা হিসেবে সম্বোধন করতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন।

“সিরাজুল আলম খানের জন্ম না হলে এবং তিনি যদি নিউক্লিয়াস গঠন না করতেন তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো কিনা তা বলা মুশকিল। তখন যা কেউ কল্পনা করেনি নিউক্লিয়াস, বিএলএফ কিংবা জয় বাংলা বাহিনী গঠন করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য কাজ করেছেন”।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি