ঢাকা ব্যুরো : কোটা সংস্কার আন্দোলনের ‘বাংলা ব্লকেড’ এর চতুর্থদিন অবরোধে উত্তাল হয়ে উঠে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেট ভেঙ্গে বিক্ষোভ করেছে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড়ের দখল নিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বক্ষমতা জানান দিয়েছে। সড়কে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে প্রথমে রাজধানী শাহবাগ থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আধাবেলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি লক্ষ্য করা যায়। শাহবাগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বাধা, লাঠিচার্জসহ নিক্ষেপ করা হয়েছে টিয়ারশেল-রাবার বুলেট। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। শাহবাগে শিক্ষার্থীদের জোয়ারে পুলিশের ব্যরিকেড ভেঙে যায়। দাবি আদায়ে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা আওয়াজ তুলেছেন জোর গলায়। পূর্বঘোষিত এই ব্লকেডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শাহবাগে মুহুর্মুহু স্লোগান তোলেন।
সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় নিয়ে কোটাকে ন্যূনতম ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটাপদ্ধতিকে সংস্কার করার দাবিতে দেশব্যাপী ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা। ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় আগে থেকে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশের ব্যাডিকেড ভেঙে পুরো শাহবাগ এলাকা নিজেদের দখলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
অবরোধ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ছাত্র সমাজের অ্যাকশন’, ‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘বাধা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘বুলেট দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না, পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘মামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘বাধা দিলে বাধবে লড়াই’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরো দিব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিব না’ ইত্যাদি সেøাগান দিতে দেখা যায়।
রাজপথে অবস্থান নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা যোগ দেন। শাহবাগ থেকে অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের শ্রোত বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। শাহবাগ কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এ সময় কিছু শিক্ষার্থীকে পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপর উঠে উল্লাস করতে দেখা যায়।
কোটা বিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে আসা ছাত্রলীগ নেতাদের অনতিদূরে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রাজধানী ঢাকার মতোই সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কুমিলায় ঢাকা টু চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের একপর্যায়ে আইন শৃংখলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রলীগ। এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে জিম্মি করে জনসাধারণের সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা হলে ছাত্রলীগ রুখে দাঁড়াবে।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা শুরুতে চারদফা দাবিতে বিক্ষোভ করলেও এখন তারা মাঠে রয়েছে একদফা নিয়ে। তাদের দাবি হলো- সব গ্রেডে সব ধরনের ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ‘ন্যূনতম পর্যায়ে’ এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন হল থেকে আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে মধুর ক্যান্টিনের সামনে একত্রে ছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা সে সময় দলীয় স্লোগান দিচ্ছিলেন।
কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ছাত্রলীগ আমাদের আন্দোলনে সহযোগিতা না করে উল্টো ভয়ভীতি দেখানোর জন্য বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মধুর ক্যান্টিনে জড়ো করেছে। এখানে পুরান ঢাকা থেকে অনেক টোকাইদেরও নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বাধা দেবেন না। অন্যথায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে ছাত্রলীগকে এর দায় নিতে হবে।
বিকাল ৪টার দিকে কোটা বিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছোট একটি সমাবেশ করেন। এরপর লাইব্রেরি থেকে মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রাঙ্গণ ঘুরে ভিসি চত্বর, টিএসসি হয়ে শাহবাগে যায়। সেখানে পূর্বে থেকেই পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ব্যারিকেডের সামনে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যায়। সেখানে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের তোড়ে ভেঙে পড়ে ব্যারিকেড। ব্যারিকেডের পিছনে ছিল পুলিশের একটি সাজোয়া যান ও একটি জলকামান। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তোড়ে পুলিশের গাড়ি দু’টি পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী গাড়ির উপরেও উঠে বসেন। এক শিক্ষার্থী সাজোয়া যানের উপর উড়াতে থাকেন বাংলাদেশের পতাকা। শিক্ষার্থীরা অন্যান্য দিন শাহবাগসহ বিভিন্ন মোড়ের যান চলাচল রুখে দিলেও গতকাল শুধু শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে। এরপরও পুলিশের সঙ্গে কয়েকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
শাহবাগে শিক্ষার্থীরা দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকে। ‘ব্লকেড, ব্লকেড- বাংলা ব্লকেড’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষ্যমের ঠাঁই নাই’, সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, মেধা না কোটা- কোটা কোটা’ ‘দালালি না রাজপথ- রাজপথ রাজপথ’ এমন নানা স্লোগান দেন। হাজার শিক্ষার্থীর স্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে চারপাশ। এ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় হামলার বিরোধিতা করেও স্লোগান দেয় তারা। একটি বড় মিছিল নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা যোগ দেয়। এ ছাড়াও এতে যোগ দেয় রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেট ভেঙ্গে ঢাকা- মানিকগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে। চট্টগ্রামে কোটা বিরোধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান গ্রহণ করে বিক্ষোভ করলে পুলিশের লাািঠ সার্জে ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশী ব্যারিকেট ভেঙ্গে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে নিয়ে বিক্ষোভ করে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির মধ্যে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে নগরীর জিরোপয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। ময়মনসিংহে ট্রেন অবরোধ করা হয়। রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। অতপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্তীরা ফার্মগেইট-মিরপুর সড়ক অবরোধ করে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কারপন্থি শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে পুলিশ। এতে একাধিক গণমাধ্যমকর্মীসহ গুরুতর আহত অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করার উদ্দেশ্যে বের হলে পুলিশের বাঁধায় এ ঘটনা ঘটে।
কোটা সংস্কারের এক দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচিতে বাঁধাদান ও দফায় দফায় লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে নগরীর টাইগারপাস মোড়ে মিছিল নিয়ে প্রবেশের সময় বাঁধার সম্মুখীন হয় তারা।
বাঁধা দেওয়ার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা বাঁধা উপেক্ষা করে করে রাস্তা অবরোধ করে নগরীর টাইগারপাস মোড় থেকে ২ নম্বর রেল গেইট এলাকার দিকে মিছিল নিয়ে বের হলে আরেক দফায় লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে অন্তত চারজন আহত হয় বলে জানান আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোল’ এর অন্যতম সমন্বয়ক তালাত মাহমুদ রাফিও এতে আহত হন। পরে আহতদের বিভিন্ন মেডিকেল ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাবি) শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে একটি ট্রেন আন্দোলনের স্থান থেকে এক কিলোমিটার দূরে অপেক্ষমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এসময় ‘আমার ভাইয়ের রক্ত কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, কুমিল্লায় হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই, মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’ এমনসব স্লোগানে মুখর করে তুলেন শিক্ষার্থীরা।
লক্ষ্মীপুর থেকে জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখাসহ চার দফা দাবিতে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে বিক্ষোভ কর্মসূচির পালন করে শিক্ষার্থীরা।
পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা এই অবরোধ চলে। এতে দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের অনুরোধে ক্যাম্পাসে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সামনে জড়ো হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ ক্যাম্পাসেই বিক্ষোভ করেন তারা। পরে শিক্ষার্থীরা পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সারা দেশের সঙ্গে একযোগে কর্মসূচি পালন করে আসছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নিতে শুরু করে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে জমায়েত হতে শুরু করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মূল ফটক দিয়ে বের হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এসময় পুলিশ তাদের বাঁধা প্রদান করলেও পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক বন্ধ করে অবরোধ শুরু করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দিলে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ক্যাম্পাসের সামনের মহাসড়ক ত্যাগ করে। ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন, প্রশাসন জবাব চাই, মেধা না কোটাসহ নানা শ্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। আমরা রক্ত দেব। তবুও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে পিছু হবোনা।’ মহাসড়ক অবরোধের ফলে উভয়প্রান্তে যানবাহন আটকে পরে। ফলে সাধারণ যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। আর পণ্যবাহী গাড়িগুলো সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।
সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে বাঁধা উপেক্ষা করে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকে যান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়ক অবরোধ করতে শিক্ষার্থীদের বাঁধা দেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাঁধা দেওয়ার সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। এতে ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
আন্দোলনকারী কয়েকজন জানান, বেলা তিনটা থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন প্ল্যাকার্ড নিয়ে গোলচত্বরে জড়ো হন। বিকেল সোয়া চারটার দিকে মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকের দিকে যান। এরপর পুলিশ বাঁধা দিলে বাঁধা ঠেলে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। পৌনে এক ঘণ্টা অবরোধের পর বিকেলে সোয়া পাঁচটার দিকে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দেন।
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী। বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আগারগাঁও সড়ক দখলে নেয়।
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বৃষ্টির মধ্যে খুলনার জিরোপয়েন্টে অবরোধ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় শিক্ষার্থীরা জিরোপয়েন্টের চতুর্দিকের সড়ক অবরোধ করে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
রাজধানীর শাহবাগে গতকাল রাত নয়টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা জানান , আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এই হামলার প্রতিবাদ ও কোটা সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার (আজ) বিকেল চারটায় সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হবে। হামলা করে, ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না। জাতীয় সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাস করে সব গ্রেডে ৫ শতাংশ কোটা রেখে বাকি কোটা বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।