রাডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য টোকিওর সাথে ভাগাভাগি , বিতর্কিত জলসীমার উপর নজর রাখছে ফিলিপাইন
ফিলিপাইন তার উপকূলে কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য সম্প্রতি স্থাপন করা জাপানে তৈরি এয়ার সার্ভেইলেন্স বা আকাশ নজরদারি রাডার ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে রাডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য টোকিওর সাথে ভাগাভাগি করা হবে বলে তারা জানিয়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ বুধবার ফিলিপাইনের একটি বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে একটি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ঘাঁটিটি দক্ষিণ চীন সাগরের মুখোমুখি অবস্থিত, যেখানে বেশ কয়েকটি জায়গায় চীনের সাথে ফিলিপাইনের জলসীমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে।
ফিলিপাইনের ন্যাশনাল টাস্কফোর্স ফর দ্য ওয়েস্ট ফিলিপাইন সির মুখপাত্র জে টিরেলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেছেন, চীনা কোস্টগার্ড ও মেরিটাইম মিলিশিয়া জাহাজগুলো ফিলিপাইনের বেসামরিক সরবরাহ জাহাজগুলোকে হয়রানি করেছে। সেগুলোকে ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ করে ফেলতে বিপজ্জনক কৌশল অবলম্বন করেছিলেন চীনারা। এদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যকার বিরোধ নিয়ে ম্যানিলার পক্ষাবলম্বন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নিশিওয়াকি ওসামু বলেছেন, “রাডার ব্যবস্থা হস্তান্তরের তাৎপর্য হল জাপানে তৈরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে ফিলিপাইনের এখন তার আশেপাশের আকাশসীমার দিকে নজর রাখার নতুন সক্ষমতা রয়েছে, যা আমাদের সহযোগিতার সম্পর্ককেও দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে।”
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ম্যানিলার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ ডিসেম্বর স্কারবোরো রিফের বাইরে এবং আবার ১০ ডিসেম্বর সেকেন্ড থমাস শোলের কাছে চীনা জাহাজ জলকামান ও বেপরোয়া কূটকৌশল ব্যবহার করে। যার ফলে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ফিলিপাইনের জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেগুলোতে থাকা ফিলিপিনো ক্রুদের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিপজ্জনক ও বেআইনি পদক্ষেপের মুখে ফিলিপাইনের মিত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা আবারও নিশ্চিত করছি যে, ১৯৫১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারা ৪ অনুসারে দক্ষিণ চীন সাগরের যে কোনো জায়গায় ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক যান বা বিমানের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে।’
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা সচিব গিলবার্তো তেওদোরো বলেছেন, “আমরা সহযোগিতা করছি কারণ পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরকে নিজস্ব জলসীমার আওতাভুক্ত করার জন্য অন্য কিছু দেশের কল্পিত এবং একতরফা প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের মূল্যবোধে মিল রয়েছে।” তিনি তার মন্তব্যে নির্দিষ্ট কোন দেশের উল্লেখ এড়িয়ে গেলেও দক্ষিণ চীন সাগরে অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেন।
দক্ষিণ চীন সাগরে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সঙ্গে জলসীমা নিয়ে বিরোধে লিপ্ত চীন। কয়েক মাসে ফিলিপাইনের নৌযানের সঙ্গে তারা বেশ কয়েকবার মুখোমুখি অবস্থানে গিয়েছিল। ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের টহল জাহাজের প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন।
ফিলিপাইন আরও তিনটি জাপানে তৈরি রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে।