• ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা গোয়েন্দা সংস্থার , নির্বাচন উপলক্ষে ১৩ দিন মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী

Usbnews.
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২৩
নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা গোয়েন্দা সংস্থার , নির্বাচন উপলক্ষে ১৩ দিন মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা দেখছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। নির্বাচন কমিশনকে তারা পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, কয়েকটি বিশেষ দল নির্বাচন প্রতিহতের কর্মসূচি দিয়েছে। তারা নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। এই প্রচারণা বিশেষ নজরদারিতে রাখতে হবে। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি চালানোর তাগিদ দিয়েছে তারা। গতকাল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ঢাকা বিভাগীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে এমন আশঙ্কার কথা জানান গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ইসির বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, অতীতের মতো এবারো পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যালট পেপার ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রে পৌঁছানোর দাবি জানানো হয়। বলা হয়, ঢাকা বিভাগের অনেক এলাকা দুর্গম।

এসব এলাকায় সকালে ব্যালট পেপার পৌঁছানো চ্যালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে সাব-ক্যাম্প করে দুর্গম এলাকার ব্যালট সংরক্ষণের প্রস্তাব দেয়া হয়। জবাবে সিইসি সরাসরি পুলিশের এই প্রস্তাব নাকচ করে বলেন, রাত ৪টার সময় রওনা দিলে নির্ধারিত সময়ের আগে পৌঁছানো সম্ভব। এর পরও সমস্যা মনে করলে আপনারা (রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) নিজেরা বসে সমন্বয় করবেন। ব্যালট পৌঁছাতে কোথায় কি ধরনের সমস্যা হবে সেটা লিখিত জানালে কমিশন বিবেচনা করবে।

সভায় কমিশনের পক্ষ থেকে ঢাকার আসনগুলোতে দায়িত্ব পালন করা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কাছে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জন ওসি কথা বলেন। তারা ইসিকে জানান, নির্বাচনী পরিবেশ ভালো আছে। কোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা নেই। এরপরই গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়। তারা বলেন, বিশেষ কয়েকটি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তারা নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা চলছে, এসব প্রচারণায় বিশেষ নজরদারি চালানো উচিত। কারণ, প্রচারণার মধ্যে নাকশতা চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলতে পারে। ভোটের দিন পর্যন্ত এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

ঢাকা বিভাগীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য শোনার পর এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, কি হলো, না হলো তা দেখার সুযোগ বর্তমানে নেই। যেকোনো মূল্যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হতেই হবে। দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহল যেন দেখতে পায় এই নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এই নির্বাচন ঘিরে যে গণতন্ত্রের সূচনা হলো তা অব্যাহত রাখতে হবে।

এদিকে বৈঠক শেষে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ডিসি, এসপি, ওসি, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার, সে বিষয়ে সিইসি বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে কোনো সহিংসতা না হয় এবং তৃতীয় পক্ষ যেন কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে এবং সমস্যা সৃষ্টি করলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনের সময় অংশীজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একমুখী সমস্যা থাকে, সেটা হলো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার সমর্থকদের আচরণ বিধি মানতে বাধ্য করা, সহিংসতা এড়াতে যে সমস্ত কার্যক্রম নিতে হয় সেগুলো। এবারের নির্বাচনে আরেকটি অতিরিক্ত, সেটি হচ্ছে আতঙ্ক, শঙ্কা সৃষ্টি করার একটি পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দুয়েকটি দলের আহুত প্রোগ্রামকে সামনে রেখে ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ এই সমস্ত শঙ্কাগুলো মোকাবিলা করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলার মতো একটি অবস্থান, ক্যাপাবিলিটি, সবকিছুই তাদের রয়েছে। এজন্য প্রস্তুতিও রয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো সমালোচনা যাতে না হয়, সেজন্য এবার দুর্গম এলাকা বাদে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটের সকালে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, ইসির নির্দেশনা মানতে সকলে আসলে বাধ্য। যারাই ইসির অধীনে কাজ করছে, তারাই এটি মেনে নিয়েছে যে, নির্বাচনী অন্যান্য উপকরণ আগের দিন যাবে, সকালে যাবে ব্যালট। সকলের প্রচেষ্টা থাকলে এই ভোটযুদ্ধ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।

ওদিকে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা যে বৈঠক হয়েছে আজকে সব দেশেই চ্যালেঞ্জ আছে, আমাদেরও চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো আমাদের জানিয়েছে। সেখানে আমাদের পক্ষ থেকেও কিছুটা তাদের সুপারিশ করা হয়েছে। আমরাও নাশকতা মোকাবিলার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জন্য বলেছি। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য বলেছি। একে অপরে যেন শেয়ার করে যাতে ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তারা যেন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশেষ করে যারা ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন, তারা যেন নিরপেক্ষতা, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে যেন নিজের অবস্থান না দেখান সেটা বলা হয়েছে।

একটি বড় পক্ষের (বিএনপি’র অসহযোগ আন্দোলন) নতুন কর্মসূচি, প্রার্থীরা তো আছেই আপনারা কতোটুকু শঙ্কিত, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রার্থীরা এ বিষয়ে খুব একটা শঙ্কা দেখায়নি। তারা বরং উপদেশ দিচ্ছেন যে কমিশন যাতে শঙ্কিত না হন। আমাদের তারা আরও সাহস দিয়েছেন, তারা শঙ্কিত নন। আমরা মোটেই শঙ্কিত নই।

পুলিশ কী চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে, জানতে চাইলে সাবেক ওই ইসি সচিব বলেন, তারা ক্ষমতাসীন দল ও তার স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, ইতিবাচক অর্থে উত্তেজনামূলক হবে বলেছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমেরিকা নির্বাচনে তো র‌্যাব ও পুলিশ থাকে না। এবার যেহেতু একটা দল আসছে না, তাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন বাতিলের একটা হুমকি দেয়া হচ্ছে, সেটার একটা চ্যালেঞ্জ আছে। এগুলোকে মোকাবিলা করে কীভাবে নির্বাচন করা যায় এবং ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে আসে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে আনন্দমুখর পরিবেশ আছে। আপনারা কী ভয় পাচ্ছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোটেই না।

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিন মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী।পাশাপাশি পুলিশ-র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও আনসার ব্যাটালিয়ন ওই ১৩ দিন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে।

বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এসব কথা জানানো হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, প্রতি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিভিন্ন বাহিনীর ১৫ থেকে ১৭ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে সশস্ত্র বাহিনী। ভোটের আগে-পরের ১৩ দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী ‘মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। আনসার ব্যাটালিয়ন সহযোগী ফোর্স হিসেবে পুলিশের সাথে ভ্রাম্যমাণ দলে দায়িত্ব পালন করবে। আনসার-ভিডিপিসহ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সদস্যরা ভোটের আগের দু’দিন ও পরের দু’দিন মিলিয়ে পাঁচ দিন নিয়োজিত থাকবেন।

পরিপত্রে আরো বলা হয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় মহানগর এলাকা, মহানগর এলাকার বাইরে ও পার্বত্য এবং দুর্গম এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১৬ থেকে ১৭ জন পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা চাইলে সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারবেন।

আগামী ৬ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে ৭ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক, লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল করতে পারবে না বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কেউ বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করতে পারবেন না। কেবল জরুরি প্রয়োজনীয় বাহন ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুমতি পাওয়া যান চলাচল করতে পারবে। ভোট গ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা ও পরের ৪৮ ঘণ্টা মিছিল-মিটিং ও শোভাযাত্রা করা যাবে না।