আবারও আলোচনায় এসেছে গাজায় দ্বিতীয় যুদ্ধবিরতি। ইসরায়েল বলছে, এখনই যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সময়। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। তারা যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের শেষ চান।
হামাসের এমন অনড় অবস্থানে কঠিন বিপাকে পড়েছে ইসরায়েল সরকার। গাজায় জিম্মিদের উদ্ধারে মিলিটারি অপারেশন চালিয়েছে ইসরায়েল, তবে এতে হিতে বিপরীত হয়েছে তাদের জন্য। সবশেষ হামাসের যোদ্ধা মনে করে তিন জিম্মিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এরপর তেলআবিবে ওই নিহতদের স্বজনরাও বিক্ষোভ করেছে। এতে নতুন করে চাপে পড়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।
ইসরায়েলের দাবি, চলতি মাসের শুরুতে প্রথম যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই হাজারের বেশি হামাসের সেনাকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া এ সমেয়ে ১০০ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এমনকি গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে জাতিসংঘে রেজুলেশন পাসের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডানম গেব্রেইসাস জানিয়েছেন, চিকিৎসক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ মৌলিক সরবরাহের অভাবে উত্তর গাজার কোনও হাসপাতালের কার্যক্রম আর চালানো যাচ্ছে না।একই দিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘের একটি দল গাজা উপত্যকার বৃহত্তম চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান শিফা হাসপাতাল এবং আল আহলি আরব হাসপাতাল পরিদর্শন করে। সেখানে তারা কিছু জরুরি ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করে।
ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ) এবং ক্রিটিক্যাল থ্রেট প্রজেক্ট (সিটিপি) জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী গাজার দক্ষিণ খান ইউনিসে একটি লোডেড রকেট লঞ্চার আটক এবং ধ্বংস করে। যা ইসরাইলি ভূখণ্ডে নিক্ষেপে প্রস্তুত ছিল।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক তদন্তে দেখা যায়, গাজা যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে ইসরাইল দক্ষিণ গাজায় সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বোমা নিক্ষেপ করেছে। অথচ তারাই প্রচার করেছিল যে এই অঞ্চলটি গাজার সবচেয়ে বড় নিরাপদ স্থান।