লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সামরিক বাহিনীর হামলার কারণে দখলদার ইসরাইলের এইলাত সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম অনেকটা পঙ্গু হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনাদের বর্বর আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা ও সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজে হামলা শুরু করে।
হুতিদের হামলা থেকে জাহাজ চলাচল পথ সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হুতিরা ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজেও হামলার হুমকি দিয়েছে।
গত রোববার হুতি গোষ্ঠীর তথ্যমন্ত্রী দাইফুল্লাহ আল-শামি বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চললে ওই অঞ্চলে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্পর্শকাতর বিভিন্ন নিশানায় হামলা চালাবে হুতি বাহিনী।
গত শনিবার হুতি গোষ্ঠীর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছে,তারা ইসরায়েল অভিমুখী সব জাহাজে হামলা চালাবে,তা তাদের জাতীয়তা যাই হোক না কেন। ইসরায়েলি বন্দরগুলোতে কোনরকম কর্মকাণ্ড পরিচালনা এড়াতে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিকেও সতর্ক করেছেন তিনি।
গাজায় প্রয়োজনীয় খাবার এবং ঔষধ না পৌঁছলে লোহিত সাগরে ইসরায়েলের বন্দর অভিমুখী সব জাহাজ হুতিদের সশস্ত্র বাহিনীর হামলা নিশানা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
মঙ্গলবার লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগ রক্ষাকারী বাব আল মানদাব প্রণালীর কাছে নরওয়ের একটি ট্যাংকারে হমলা চালায় হুতিরা।
যে সমস্ত জাহাজ ইসরাইলে যেতে চাইছে তাদেরকে এখন পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে ভূমধ্যসাগর হয়ে যেতে হচ্ছে। তাতে যেমন দূরত্ব বেড়েছে তেমনি সময় এবং অর্থ খরচ দুটোই বেশি লাগছে। ফলে অনেক পণ্য সময় মতো পৌঁছাতে পারছে না আবার কোন কোন পণ্যের মেয়াদ হয়তো জাহাজেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে ইসরাইল অভিমুখী জাহাজে ইয়েমেনের হামলার কারণে এইলাত বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শতকরা ৪০ ভাগ বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রধান নির্বাহী গিডিয়ন গোলবার রয়টার্সকে বলেন, “বাব আল-মান্দেব ছাড়া এইলাত বন্দরের প্রধান শিপিং ধমনী অচল। ফলে আমরা মোট কার্যক্রমের শতকরা ৮৫ ভাগ হারিয়েছি।” আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা এবং ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী লোহিত সাগরে হামলা শুরু করার পর থেকে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক শিপিং জায়ান্ট বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মাধ্যমে তাদের জাহাজ চলাচল বাতিল করছে।