• ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে যাচ্ছে চীন , কয়েকটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস

Usbnews.
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২৩
পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে যাচ্ছে চীন , কয়েকটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে যাচ্ছে চীন! এমনই বার্তা দিচ্ছে কিছু স্যাটেলাইট ছবি। মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এমন কয়েকটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, চীনের উত্তর-পশ্চিমে স্বায়ত্তশাসিত জিনজিয়াং প্রদেশে লপ নুর পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাগার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেখানেই হতে পারে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা। তা থেকেই মনে করা হচ্ছে, চীন পুরোদমে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, চীন কিছু আধুনিক মানের ব্যালিস্টিক এবং জাহাজ থেকে ছোড়ার পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে।

এবার সেগুলো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লপ নুরের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাগারের স্যাটেলাইট ছবি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে চলেছেন রেনি বাবিয়ার্জ। তিনি অতীতে পেন্টাগনের হয়ে কাজ করেছেন। সেই রেনিই এবার লপ নুরের সক্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৪ সালের ১৬ অক্টোবর প্রথমবার এই লপ নুরে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছিল চীন।

নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, আমেরিকা এবং চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে তাদের যে ‘বিতর্কিত’ সম্পর্ক রয়েছে, তাতে স্থিতি আনার চেষ্টা করছেন। গত মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকেও বসেন তিনি। সেখানে এই নিয়ে আলোচনা করেন।

পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে চীন। এ বারই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এই রিপোর্টের সত্যতা উড়িয়ে দিয়েছে। যদিও স্যাটেলাইট ছবি নিয়ে যারা গবেষণা করছেন, তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে লপ নুরের অনেক উন্নতি ঘটেছে। নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা হয়েছে, আগে সেখানে ছিল কয়েকটি বাড়ি। ২০১৭ সালের মধ্যে তা ছিমছাম, অত্যাধুনিক আবাসনে পরিণত হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নতুন ওই এলাকায় একটি বাঙ্কারও রয়েছে। নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে এও দেখা গেছে, লপ নুরের পরমাণু কেন্দ্রের আশপাশে নতুন বিমানঘাঁটি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ৯০ ফুট গভীর কূপ খনন করার চেষ্টা চলছে। স্যাটেলাইট ছবি ড্রিল পাইপের অবস্থানও লক্ষ্য করা গিয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবি দেখা গিয়েছে, লপ নুরে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাগারের আশপাশে ছোটখাটো নগর তৈরি হয়েছে। ওই পরীক্ষাগারের কাজে সাহায্যের জন্যই গড়ে উঠেছে জনবসতি।

সেখান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আরও একটি ‘কূপ’। সেখানেই লপ নুরের কূপ খননের জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে মনে করা হচ্ছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হচ্ছে, প্রায় এক দশক আগে চীনের কাছে ছিল ৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যা অন্য দেশে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ২০২৮ সালের মধ্যে তাদের হাতে অন্তত ৫০৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চারও থাকতে চলেছে। এই তথ্য সত্যি হলে ভারতের জন্য তা উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে।