• ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মাহমুদুর রহমানের সাজা বাতিল ও আমার দেশ প্রকাশের দাবি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের

usbnews
প্রকাশিত আগস্ট ১৮, ২০২৪
মাহমুদুর রহমানের সাজা বাতিল ও আমার দেশ প্রকাশের দাবি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান ও মিসেস মাহমুদুর রহমানের বিরদ্ধে পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের দেওয়া ফরমায়েশী সাজা বাতিল করতে অন্তর্র্ব্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। আমার দেশ পত্রিকার প্রেস খুলে দেওয়াসহ পত্রিকা দ্রুত প্রকাশের সকল অন্তরায় দূর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে সংবাদকর্মীদের দীর্ঘ প্রায় একযুগ বেকার রাখা এবং পত্রিকার প্রেস জব্দ করে রেখে যন্ত্রপাতি বিনষ্ট ও লুটপাটের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতারা এসব দাবি জানান। সামাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি ও আমার দেশ-এর নগর সম্পাদক এম. আবদুল্লাহ।

সমাবেশে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজে মহাসচিব ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরী, বিএফইউজে সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, বর্তমান সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম, এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সের সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বিএফইউজে’র সহসভাপতি এ কে এম মহসিন, সহকারি মহাসচিব বাছির জামাল, প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংবাদিক সাখাওয়াত ইবনে মইন চৌধুরী, ইংরেজী দৈনিক ইকোনমিক এক্সপ্রেসের আমীর হোসেন জনি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দৈনিক আমার দেশ গণমানুষের কন্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল। মাহমুদুর রহমানের সাহসী নেতৃত্বে পত্রিকাটি যখন জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে উঠে তখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার তা বন্ধ করে দেয়। মাহমুদুর রহমানকে বার বার গ্রেফতার, রিমান্ড, হামলা, মামলা করে তার জীবনকে বিপন্ন করে তোলা হয়েছিল। মাহমুদুর রহমানের মত নির্ভীক সম্পাদক সমসাময়িককালে আর দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে জাহিদ হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে পালাতে বাধ্য হওয়া আওয়ামী সরকার আপনার বিরুদ্ধেও অনেক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমরা পেশাজীবী ও সাংবাদিক সমাজ প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা আশা করি, মাহমুদুর রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা ও মামলা বাতিলে আপনি উদ্যোগ নেবেন। দৈনিক আমার দেশ প্রকাশের পথ সুগম করবেন।

বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, মাহমুদুর রহমান ও আমার দেশ পত্রিকার অপরাধ হচ্ছে তারা সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করেছেন। সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এ জন্যে আওয়ামী স্বৈরসরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে তাকে। অবিলম্বে সাজা বাতিল করে মাহমুদুর রহমানকে দেশে ফেরার সুযোগ করে দিন। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের দাবি জানাতে হবে কেন। এটি তার দায়ত্বি। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমের টুটে চেপে রেখেছিল। মানুষের বাক স্বাধীনতা ছিল না। আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি ও সিএসবি টিভিসহ অনেক গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে। বহু সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের বিচার হয়নি। ছাত্রজনতার অভুত্থ্যানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমরা ভেবেছিলাম বন্ধ গণমাধ্যমগুলো অন্তর্বর্তী সরকার খুলে  দেয়ার ব্যবস্থা করবে কিন্তু তা করা হয়নি। আমাদের দাবি দ্রুত বন্ধ গণমাধ্যমগুলো খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। মাহমুদুর রহমান ও তার পরিবার এবং আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যার করার দাবি জানান এই সাংবাদিক নেতা।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমান শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনের নির্মম শিকার। এমন জুলুম কোন সম্পাদক বা সাংবাদিকের ওপর হয়। তাকে হত্যা করার জন্যে বারবার হামলা করা হয়েছে। ১২৪টি মামলা দিয়ে আদালতে বারান্দায় ঘুরিয়েছে। বানোয়াট অভিযোগে ৭ বছরের কারাদ- দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার পরও মাহমুদুর রহমান প্রতিকার না পাওয়া দুঃখজনক। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে মাহমুদুর রহমানের সাজা বাতিল, তার স্ত্রীর সাজা বাতিল, মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়া এবং প্রেসের তালা খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

 

(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)