এই নাম করণে সবার প্রতি সম্মান জানানো হবে। কারো প্রতি বৈষম্য থাকবে না। ১৯৮৯ সালে সিলেটের হেদায়েত আহমদ চৌধুরীর দেয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা সংস্কারের সময় এসেছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এম.সি.কলেজের কোথাও খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ, সি.আই.ই এর কোন স্মৃতিচিহ্ন নেই।
উল্লেখ্য – বর্তমান ১২৪ একর ভূমি নিয়ে বিশাল ক্যাম্পাস কোন ব্যক্তির সম্পদ ছিল না। সরকারি খাস জমিতে ১ম বিশ্বযুদ্ধ ও অন্যান্য নানা সমস্যার কারণে কলেজের ক্যাম্পাস পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। তখন কলেজ থেকে ৩ কি. মি. দূরে থ্যাকারে টিলায় (বর্তমান টিলাগড়) ১২৪ একর ভূমি নিয়ে বিশাল ক্যাম্পাসে কলেজ স্থানান্তর করা হয়।
এই কলেজের জম্মলগ্ন থেকে সকল ধর্ম বর্ণের লোকদের অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও ক্যাম্পাসে নেই উনাদের কোন চিহ্ন। বসানো হয়েছে ২ জনের মূর্তি। কিন্তু অন্যদের কথা নেই। তাই আমরা চাই কোন বিতর্ক না করেই সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নাম করন করা হোক। সিলেট এমসি কলেজ নামটি ও সংস্কার ও পরিবর্তন করা জরুরি।
১৯৮৯ সালে বিতর্কিত আইনে ‘সিলেট সরকারি কলেজ’ নাম থেকে ‘মুরারিচাঁদ কলেজ’ নামে নামকরণ হয়। যদিও এখন ‘সিলেট সরকারি কলেজ’ নাম দিয়ে একটি কলেজ আছে তাই এমসি কলেজকে সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নাম করন করা হোক।
কলেজ ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । হাসান মার্কেট এর স্থানে বাঁশ ও নল-খাগড়া দিয়ে কলেজের জন্য গৃহ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে খান বাহাদুর আব্দুল মজিদ সি.আই.ই মূলত সব কিছুর উন্নতি করেন। যার শেষ করেন আব্দুল মজিদ (কাপ্তান মিয়া) সহ আরও অনেকে। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে এম. সি. কলেজ নামকরণে অন্যদের নাম যুক্ত হয় নাই।
ভারত পাকিস্তান জন্মের সময় জিন্নাহর ভূমিকা ছিল। তাই বলে বাংলাদেশ জন্মের পর কি এখনো আমরা বাংলাদেশের জন্মের মালিক জিন্নাহকে বলবো ?
বুঝতে হবে জননেতা আব্দুল মজিদ (কাপ্তান মিয়া) সহ আরও অনেকে মিলে ১৮০০০ টাকা অনুদান দিলে কলেজটিতে স্নাতক শ্রেণি চালু হয়।
১৯৮৯ সালে শিক্ষা সচিবের কলমের খোঁচায় সিলেট সরকারি কলেজ’ নামের পরিবর্তে পুনরায় ‘মুরারিচাঁদ কলেজ’ নামে নামকরণ হয়। ১৯৮৯ সালে বদলানো হলে পুরোনো নাম করন হোক। কারণ এই কলেজের পেছনে অনেকের শ্রম জড়িত।সিলেট নামকরণে সবার স্বীকৃতি দেয়া হোক।
ভারত পাকিস্তান জন্মের সময় জিন্নাহর ভূমিকা ছিল। তাই বলে বাংলাদেশ জন্মের পর কি এখনো আমরা বাংলাদেশের জন্মের মালিক জিন্নাহকে বলবো ?
যদি বাংলাদেশের স্থপতি জিন্নাহকে এনে নিতে পারেন তাহলে সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এমসি কলেজ মেনে নেয়ার মতো। নামকরণ তো সেটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বুঝতে হবে জননেতা আব্দুল মজিদ (কাপ্তান মিয়া) সহ আরও অনেকে মিলে ১৮০০০ টাকা অনুদান দিলে কলেজটিতে স্নাতক শ্রেণি চালু হয় । ১৮৯৭ সালের বিরাট ভূমিকম্পের ফলে রাজার বাড়ি ঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহ ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি ঋণ গ্রহণ করে তা পুনর্নির্মাণ করতে যেয়ে ধীরে ধীরে আর্থিক অনটনে পতিত হন। ১৯০৮ সালে রাজা গিরিশ চন্দ্রের মৃত্যুর পর এইডেড প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কাপ্তান মিয়ার নেতৃত্বে ও উদ্যোগে কলেজটি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। সেই সময় এমসি কলেজ সিলেট শহরের ভিতর ছিল এবং প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রি কলেজের উপযুক্ত পরিবেশ এবং দালান কোঠা সেখানে ছিলনা।তখন কাপ্তান মিয়ার নেতৃত্বে তিনি শহর থেকে তিন মাইল দূরে ১২০ একর সরকারি জমি অধিগ্রহণ করে বর্তমান এমসি কলেজ প্রাঙ্গণের ভিত্তির সূচনা। জিন্নাহ ও বাংলাদেশের উদাহরনের কারণ এবার পরিষ্কার হলো তো সবার কাছে।
আসামের তদানীন্তন চীফ কমিশনার স্যার আর্চডেল আর্ল ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে এম. সি. কলেজকে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে গ্রহণ এবং প্রথম শ্রেণীর কলেজে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। অতঃপর সিলেট শহরে অবস্থিত ত্রিভুজাকৃতি পার্ক-এ (বর্তমান হাসান মার্কেট) বাঁশ ও নল-খাগড়া দিয়ে কলেজের জন্য গৃহ নির্মাণ করা হয়। সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে অঙ্গীভূত হলেও তখনও এম. সি. কলেজ প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পায়নি।
এম.সি.কলেজকে প্রথম শ্রেণির কলেজে উন্নীতকরণ এবং ডিগ্রি কোর্স চালু করার দাবীতে স্থানীয় জনসাধারণ আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন সিলেট শহরস্থ কাজী ইলিয়াছ মহল্লাবাসী এবং কলেজ পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য খাঁন বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ, সি.আই. ই ওরফে কাপ্তান মিয়া।
জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে স্যার আর্চডেল আর্ল প্রস্তাব করেন যে, কলেজ পরিচালনার প্রথম দুই বৎসরের ব্যয়ের অর্ধেক জনসাধারণ বহন করতে সম্মত হলে এম. সি. কলেজে ডিগ্রি কোর্স চালু এবং কলেজটিকে প্রথম শ্রেণির কলেজে উন্নীত করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে।
এমতাবস্থায় কাপ্তান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নয়জন গণ্যমান্য বিদ্যানুরাগী ব্যাক্তিবর্গ প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। তারা হলেন- (১) খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ, সি.আই.ই, (২) রায় বাহাদুর নলিনী কান্ত দস্তিদার, (৩) খান বাহাদুর হাজী মুহম্মদ বখত মজুমদার, (৪) রায় বাহাদুর বৈকুন্ঠনাথ শর্মা, (৫) রায় বাহাদুর সুখময় চৌধুরী, (৬) রায় বাহাদুর প্রমোদ চন্দ্র দত্ত, (৭) বাবু সারদা চরণ শ্যাম, (৮) বাবু রাধা বিনোদ ধাম, (৯) বাবু হরেন্দ্র চন্দ্র সিনহা। এবং তাদের সহযোগিতা করেন কয়েক শতাধিক আলেম ও সাধারণ জনগণ।
উপযুক্ত জনদরদী ব্যক্তিবর্গ কলেজের দুই বৎসরের ব্যয়ের অর্ধেক হিসেবে আঠারো হাজার টাকা সরকারকে প্রদান করেন। এভাবে জনসাধারণের প্রবল দাবী এবং সমাজসেবী কর্তৃক আংশিক অর্থ সংস্থানের ফলে ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই থেকে এম. সি. কলেজে ডিগ্রি কোর্স প্রবর্তিত হয় এ এবং কলেজটি প্রথম শ্রেণির কলেজের মর্যাদা লাভ করে। তখনও এম. সি. কলেজ পার্কে কাঁচা ঘরে অবস্থান করছিল।
১৯২১ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ আসাম সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এম. সি. কলেজকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে আত্মনিয়োগ করেন। সিলেট শহর থেকে প্রায় তিন মাইল পূর্বে অবস্থিত থ্যাকারে টিলাটি কলেজের জন্য নির্বাচিত হয়। প্রায় দেড়শত একর খাস জমি কলেজের জন্য হুকুম দখল করা হয়।
১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ শে আগস্ট আসামের গভর্নর স্যার উইলিয়াম মরিস কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ কাজ শুরু হলে শিক্ষা মন্ত্রী কাপ্তান মিয়া শিলং থেকে ছুটে এসে ব্যক্তিগতভাবে তা তদারকি করতেন।
১৯২১ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ আসাম সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এম. সি. কলেজকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে আত্মনিয়োগ করেন। সিলেট শহর থেকে প্রায় তিন মাইল পূর্বে অবস্থিত থ্যাকারে টিলাটি কলেজের জন্য নির্বাচিত হয়। প্রায় দেড়শত একর খাস জমি কলেজের জন্য হুকুম দখল করা হয়।
১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ শে আগস্ট আসামের গভর্নর স্যার উইলিয়াম মরিস কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ কাজ শুরু হলে শিক্ষা মন্ত্রী কাপ্তান মিয়া শিলং থেকে ছুটে এসে ব্যক্তিগতভাবে তা তদারকি করতেন। সরকারি খাস নাম অর্থাৎ এম. সি. কলেজ বজায় রাখতে সম্মত হন। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় নতুন স্থানে এম. সি. কলেজের উদ্বোধনের আগেই ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ২৯ শে জুন মাত্র পঞ্চাশ বৎসর বয়সে খান বাহাদুর আব্দুল মজিদ সি.আই.ই মন্ত্রী থাকাকালে শিলং-এ ইন্তেকাল করেন।
কলেজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ২৭ শে জুলাই আসামের তদানীন্তন গভর্নর এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে অনিন্দ সুন্দর নতুন ক্যাম্পাসে এম. সি. কলেজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি কাপ্তান মিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করেন- The good and brave khan Bhahadur has gone before seeing the compleion of the new college at Sylhet and the other boons and reforms for which he worked so hard.
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এম.সি.কলেজের কোথাও খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ, সি.আই.ই এর কোন স্মৃতিচিহ্ন নেই, যিনি ছিলেন এম. সি. কলেজের বর্তমান দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসের বিশিষ্ট রূপকার।
আরো যাঁদের অবদান সিলেট সরকারি কলেজ ( পরবর্তীতে এমসি কলেজের সাথে যুক্ত আছে )
আবু নসর ওহীদ ১৮৯৫ সালে মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে এফএ পাশ করা এবং ১৯০৫ সালে তিনি ঢাকা মাদ্রাসার সুপারিনটেন্ডেন্টের অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আবু নসর ওহীদ ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ও বর্তমান আজ কলেজের পেছনে শ্রম ও মেধা দিয়েছেন।
কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক বিভাগীয় ‘স্কুল ইন্সপেক্টর’ মৌলভী আব্দুল করিম যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো (১৮৯৫), এশিয়াটিক সোসাইটির সাধারণ সদস্য (১৮৯৬), বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সভাপতি (১৯১৫) এবং কাউন্সিল অব স্টেটের সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও আরবিতে সমান দক্ষ ছিলেন।তিনি মুসলিম ছাত্রদের সংগঠিত হওয়া এবং পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৯১৯ সালে মুসলিম ছাত্র সম্মেলন এবং ১৯৩০ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি মুসলিম লীগ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি বেঙ্গল মুসলিম কনফারেন্সেের সভাপতি হন।তিনি ও বর্তমান আজ কলেজের পেছনে শ্রম ও মেধা দিয়েছেন।
পরবর্তীতে সিলেট সরকারি কলেজকে এগিয়ে নিয়ে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখেন বুয়েটের প্রথম উপাচার্য এম এ রশীদ , তিনিই দেশের প্রথম ব্যক্তি যিনি প্রকৌশলী বিষয়ে প্রথম পিএইচডি সম্পন্ন করেন।তার স্মরনে বুয়েটে এক ছাত্র হল (এম এ রশীদ হল) নামকরণ করা হয়। ১৯৫৮ সালের ২৩ ডিসেম্বরে তিনি পাকিস্তান সরকারের জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য মনোনীত হন। ১৯৬১ সালের ১ এপ্রিল তিনি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রথম কারিগরী শিক্ষা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সময়ে তিনি নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত হন।তিনি ও বর্তমান আজ কলেজের পেছনে শ্রম ও মেধা দিয়েছেন।
১৯৩৪-১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে মিশরে কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা কারী মেধাবী লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী , খান বাহাদুর সৈয়দ সিকন্দর আলী , ব্রিটিশ ভারতের পরগনা ভিত্তিক সম্মানীয় খেতাবপ্রাপ্ত ফার্সি ভাষায় দক্ষ মুন্সি আব্দুস ছমেদ , সিলেট সরকারি পাইলট স্কুলের শিক্ষক তৎকালীন ভারতের ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে খেতাব নিয়ে মামলাকারী আরমান আলী পন্ডিত ,বিখ্যাত ফতেহ খানের বংশধর সাহিতিক আর্জুমন্দ আলী সহ অনেকের কথা সিলেট সরকারি কলেজ (বর্তমান এমসি )কলেজের কোথাও আছে কি না সন্দেহ। তাঁরা ও বর্তমান আজ কলেজের পেছনে শ্রম ও মেধা দিয়েছেন।
পত্রিকার সম্পাদক , সাংবাদিক ও লেখক , ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী না ফজলুল হক সেলবর্ষী (১৮৯৩-১৯৬৮) ফজলুল হক ১৯১৭ সালের কোনো একসময়ে সাপ্তাহিক মোহাম্মদী পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সম্পাদক হিসেবে দৈনিক নবযুগ, সাপ্তাহিক মোহাম্মদী, সাপ্তাহিক আল-মুসলিম এবং সাপ্তাহিক যুগভেরী পত্রিকায় কাজ করেন। এছাড়াও, ১৯৩৫ সালে তিনি দৈনিক তাকবির পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। তবে, সরকার বিরোধী ভূমিকার কারণে পত্রিকাটি সরকার পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়।তিনি ও বর্তমান আজ কলেজের পেছনে শ্রম ও মেধা দিয়েছেন।
এমসি কলেজের ছাত্র পরবর্তীতে মন্ত্রী আলতাফ হোসেইন, সাংবাদিক, পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রী-১৭ আগস্ট ১৯৬৫ – ১৫ মে ১৯৬৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে বিষয়টি তার নজরে এলে পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার সময় শিক্ষাকমিশনের ও ছাত্র আন্দোলনের কারণে বিষিয়টি চাপা পরে যায়।
উল্লেখ্য যে, ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তদানীন্তন পাকিস্তান শিক্ষা বিভাগের পরিকল্পনায় দেশের প্রধান কলেজগুলো থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পৃথকীকরণ প্রক্রিয়ায় এম. সি. কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক মানবিক ও বাণিজ্য শ্রেণিগুলোর বিলুপ্তি ঘটে; তবে বিশেষ বিবেচনায় এম. সি. কলেজে উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান বহাল থাকে। তখন এম. সি. কলেজের নতুন নামকরণ হয় ‘সিলেট সরকারি কলেজ’ এবং অদূরে নব্য প্রতিষ্ঠিত উচ্চমাধ্যমিক কলেজটির নামকরণ হয় ‘এম. সি. ইন্টারমিডিয়েট কলেজ’।
এম. সি. কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আই.এস.সি (বর্তমান উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান) ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে এবং ডিগ্রি কলা ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে চালু হয়। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃতিতে এবং ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি, ফারসি, আরবি, গণিত, দর্শন ও ইতিহাসে অনার্স পর্যায়ে শিক্ষাদান আরম্ভ হয়। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ডিগ্রি বিজ্ঞান কোর্স চালু হয় এবং ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে পদার্থ ও রসায়ন শাস্ত্রে অনার্স স্তরে শিক্ষাদান শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহের গৌরবময় ফলাফলের জন্য এম. সি. কলেজ উপমহাদেশের অন্যতম সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে মাস্টার্স কোর্স প্রবর্তিত হয়। বর্তমানে এম. সি. কলেজে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া ইসলামী শিক্ষা বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে।
নাম পরিবর্তনের যুক্তি ছিল ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে এম.সি.কলেজ যখন সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসে তখন তা ছিল ইন্টারমিডিয়েট স্তরের। পরবর্তীতে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের হেদায়েত আহমদ চৌধুরী শিক্ষা সচিব থাকাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় ‘সিলেট সরকারি কলেজ’ নামের পরিবর্তে পুনরায় ‘মুরারিচাঁদ কলেজ’ নামে নামকরণ হয় এবং অপর কলেজটির নাম ‘সিলেট সরকারি কলেজ’।