মিয়ানমারের একটি জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীর একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, অন্যান্য জঙ্গিদের সাথে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করার আগে চীন এই গোষ্ঠীটির সাথে যোগাযোগ করেছিল।
গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে পূর্বাঞ্চলীয় শান রাজ্যে, তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা টিএনএলএ, অন্যান্য দুটি জাতিগত সংখ্যালঘু জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে যৌথভাবে আক্রমণ শুরু করে।
তারা তখন থেকেই গণতন্ত্রপন্থী বাহিনীগুলোর সাথে সম্মিলিতভাবে আক্রমণ জোরদার করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৪ই ডিসেম্বর ঘোষণা করে যে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
তবে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কেউই এই চুক্তির বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।
এর পরের দিন, টিএনএলএ জনসমক্ষে কিছু ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করে, যাতে উত্তর শান রাজ্যে সামরিক স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তাদের জব্দকৃত অস্ত্র দেখা যায়৷ দলটির ভাষ্যানুযায়ী, তখনও লড়াই অব্যাহত ছিল।
টিএনএলএ’র একজন মুখপাত্র এনএইচকে’কে বলেছেন যে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এই মাসের মধ্যেই প্রায় ৫০টি সামরিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
তিনি এই সমন্বিত আক্রমণের লক্ষ্যও তুলে ধরেছেন: বেসামরিক ব্যক্তিদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা, সামরিক জান্তার পতন ঘটানো এবং ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন-ভিত্তিক প্রতারণা নির্মুল করা।
উল্লেখ্য, চীনা জালিয়াতি গ্রুপগুলো চীনের সীমান্তের কাছে শান রাজ্যের এলাকায় অবস্থান করে বলে বলা হয়ে থাকে।
বেইজিং বারংবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে দমনের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে সামরিক বাহিনী তাদের রক্ষার বিনিময়ে অর্থ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মুখপাত্রের ভাষ্যানুযায়ী, চীন জালিয়াতদের নির্মুল করার ধারণাটি দেয় এবং সশস্ত্র দলগুলো এই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি আরও বলেন, এই অভিযানের আগে চীন তাদের সহযোগিতা চেয়েছিল এবং দলগুলো স্বেচ্ছায় প্রস্তাবটি গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তবে ওই মুখপাত্র তার এমন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেন যে, চীন সামরিক বাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য জঙ্গিদের পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই জানত এবং এতে নীরব অনুমোদন দেয়।