• ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আলোচনা শেষে দোহায় হামাস নেতা ,কায়রোয় ইসলামি জিহাদের প্রতিনিধিদল, ৪০ জিম্মির বিনিময়ে ১২০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি , ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মিসরের

Usbnews.
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩
আলোচনা শেষে দোহায় হামাস নেতা ,কায়রোয় ইসলামি জিহাদের প্রতিনিধিদল,  ৪০ জিম্মির বিনিময়ে ১২০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে  মুক্তি , ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মিসরের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

গাজা উপত্যকায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রশ্নে আলোচনা করতে ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের একটি প্রতিনিধিদল মিসর সফরে গেছে বলে জানা গেছে। একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি এবং গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিনিধিদলটি মিসরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে।

ফিলিস্তিনের হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করতে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে মিসর। এতে বলা হয়েছে, হামাস ৪০ জিম্মিকে ছেড়ে দেবে। এর বিনিময়ে গাজায় ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি থাকবে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, এই সময়ে গাজায় সব ধরনের হামলা ও নজরদারি বন্ধ রাখবে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়া তারা ১২০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে তাদের কারাগার থেকে মুক্তি দেবে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট রোববার (২৪ ডিসম্বের) জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য মিসরের ‘তিন ধাপের’ পরিকল্পনার অংশ এটি।

মিসরের তিন ধাপের পরিকল্পনা

১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ও ৪০ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে প্রথম ধাপ।

দ্বিতীয় ধাপটি হলো আলোচনার। এই ধাপে ফিলিস্তিনি অথরিটি (পিএ) এর সঙ্গে গাজায় একটি জরুরি নিরাপত্তা সরকারের ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। এই সরকারে হামাসসহ গাজার সব গোষ্ঠী থাকবে।

আর তৃতীয় ধাপে রাখা হয়েছে দীর্ঘকালীন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব। এই ধাপে আরও জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের সব সেনাকে প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে।

মিসরের এই প্রস্তাব প্রকাশ হওয়ার পর ইসরায়েলের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যম মারিভকে বলেছেন, প্রস্তাবের কিছু অংশ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সূত্রটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই উদ্যোগ আলোচনার পথ তৈরি করবে

গাজা যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য মিসর একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারদিন ধরে আলোচনা করে দোহায় ফিরে গেছেন। ওই প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করতেই জিহাদ আন্দোলনের প্রতিনিধিদল কায়রো পৌঁছেছেন।

ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনারা প্রথমে গাজায় তাদের আগ্রাসন বন্ধ করবে এবং এর বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদের হাতে বন্দি বয়োবৃদ্ধ ও অবশিষ্ট নারী বন্দিরা মুক্তি পাবেন। এরপর গাজার পুনর্নির্মাণ এবং পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবনার তৃতীয় ধাপে বলা হয়েছে, এরপর ইসরাইল গাজা উপত্যকা থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করবে এবং অবশিষ্ট ইসরাইলি বন্দিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।  এই প্রস্তাবনা মিসর তৈরি করেছে এবং এখন পর্যন্ত ইসরাইল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেনি বলে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে।

 

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বলেছেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর দখলদার ইসরাইলের চলমান গণহত্যায় পাশ্চাত্যের দ্বিধাহীন সমর্থন সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো ইসরাইলকে ‘সন্দেহাতীত’ পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছে।

তিনি দামেস্কে ক্ষমতাসীন দলের এক বৈঠকে ভাষণ দেয়ার সময় এ মন্তব্য করেন। বাশার আল-আসাদ বলেন, ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা ইসরাইলের প্রতি সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি আধিপত্যকে তছনছ করে দিয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রতিরোধ যোদ্ধারা ফিলিস্তিন সম্পর্কে সত্য তথ্য তুলে ধরে বিশ্ববাসীর সামনে ইহুদিবাদীদের মিথ্যাচারের স্বরূপ উন্মোচন করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববাসীর সামনে আজ ইহুদিবাদী ইসরাইলের ‘সন্ত্রাসী চরিত্র’ উন্মোচিত হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা সিরিয়াসহ সব আরব দেশের পক্ষ থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।