• ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জার্মানিতে তুর্কি বংশোদ্ভূত ২৩ বছরের এক তরুণীর সাহসিকতার নজির। অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি

usbnews
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৫, ২০১৪
জার্মানিতে তুর্কি বংশোদ্ভূত ২৩ বছরের এক তরুণীর সাহসিকতার নজির। অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি
নিউজটি শেয়ার করুনঃ
জার্মানিতে তুর্কি বংশোদ্ভূত ২৩ বছরের এক তরুণীর সাহসিকতার নজির। অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি
জার্মানিতে বসবাসরত তুর্কি বংশোদ্ভূত ২৩ বছরের এক তরুণী টুচে আলবারিয়াক এর মৃত্যু।
যে মৃত্যু মুসলিম ও জার্মানদের এক করেছে।সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় সহ জার্মানির মানুষকে শোকাহত করেছে৷ তাঁরা সবাই ঐ তরুণীকে জার্মানির সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন৷সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষদের মনে নাড়া দিয়েছে এই মৃত্যু।
১৪ই নভেম্বরের রাত গড়িয়ে ভোরের দিকে ফ্রাংকফুর্টের কাছে একটি এলাকার ম্যাকডোনাল্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন তিনি৷ হঠাৎ বাথরুম থেকে চেঁচামেচি শুনতে পেয়ে সেখানে যান তিনি৷ গিয়ে দেখেন একদল তরুণ দুই স্কুল ছাত্রীকে হয়রানি করছে৷ টুচে আলবারিয়াক এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন৷
এর কিছুক্ষণ পর ম্যাকডোনাল্ড রেস্টুরেন্টের বাইরে গাড়ি রাখার জায়গায় একজন তরুণ টুচে আলবারিয়াকের মাথায় জোরে আঘাত করেন৷ এতে টুচে আলবারিয়াক নীচে পড়ে পান৷ সেই থেকে তিনি হাসপাতালে কোমায় ছিলেন৷ দুই সপ্তাহ পর ২৮শে নভেম্বের চিকিৎসকরা টুচে আলবারিয়াককে আর কোমা থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয় বলে ঘোষণা দিলে তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়৷
এই ঘটনায় জার্মান পুলিশ আঘাত করার অভিযোগে ১৮ বছরের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ৷ সে টুচে আলবারিয়াকে মারার ঘটনা স্বীকার করলেও তার দাবি, ওটা ছিল ‘একটা চড় মাত্র’৷
বুধবার মুসলিম রীতিতে টুচে আলবারিয়াক এর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷
এদিকে, টুচে আলবারিয়াককে জার্মানির সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব দেয়ার দাবি উঠেছে৷ চেঞ্জ ডট অর্গ ওয়েবসাইটে এই দাবির সপক্ষে চালু করা একটি পিটিশনে বুধবার পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই লাখের মতো মানুষ স্বাক্ষর করেছেন৷ মুসলিম সম্প্রদায় থেকে শুরু করে সাধারণ জার্মানরাও পিটিশনে স্বাক্ষর করছেন৷
জার্মানির প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘টুচে সবসময়ের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে৷’
জার্মান ফুটবল লিগ বুন্ডেসলিগার এক খেলায় করা একটি গোল টুচে-কে উৎসর্গ করেছেন ফ্রাংকফুর্টের এক খেলোয়াড়৷
নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, টুচে-র ঘটনা বহু সংস্কৃতি আদর্শের সঙ্গে খাপ খেতে জার্মানির সংগ্রাম ফুটিয়ে তুলেছে৷
জার্মান মিডিয়া সহ প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান টুচে আলবারিয়াক কে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।