আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠন রাইট টু ফ্রিডম। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। আমরা বিশ্বাস করি পর্যায়ক্রমে গণতন্ত্র এবং অধিকারকে লঙ্ঘন করার মূল্য দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে।
বাংলাদেশে আসন্ন ৭ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচন নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠন রাইট টু ফ্রিডম। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের সই করা বিবৃতিতে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলা হয়েছে।
রাইট টু ফ্রিডমের বিবৃতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মূলত নিষ্ক্রিয়, অবাধ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করছে। কিন্তু এটি সম্ভব করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাপ দেওয়ার জন্য অর্থবহ পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রসারে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্বল করেছে এমন কিছু ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। তবে এই পদক্ষেপগুলো নীতিগত লক্ষ্য অর্জনে অপর্যাপ্ত, সেটি প্রমাণিত হয়েছে। এদিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখেও চীন, রাশিয়া ও ভারত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠন রাইট টু ফ্রিডম। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। আমরা বিশ্বাস করি পর্যায়ক্রমে গণতন্ত্র এবং অধিকারকে লঙ্ঘন করার মূল্য দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে।
২৯শে ডিসেম্বর দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, অনেক মাস ধরে বাংলাদেশের বন্ধুরা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের ধরন প্রত্যক্ষ করার পর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। আগের ওই দুটি নির্বাচনে ভোটারদের অবাধে তাদের ভোটাধিকারের চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে ফল জালিয়াতি করেছে ক্ষমতাসীন দল। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে রেখে এবং বাছাই করা কিছু প্রার্থীকে প্রতিযোগিতার অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে ৭ই জানুয়ারি নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যদিয়ে সেই ঝুঁকি কার্যত সুনির্দিষ্ট রূপ পেয়েছে। এই পর্যন্ত এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এবং তার দল পর্যায়ক্রমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিবাদের এবং ভিন্নমতের স্থান বন্ধ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বহু মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ এবং বৈশ্বিক মিডিয়া আউটলেট বলে আসছে যে, এই পরিবেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবাধ নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়ে ব্যাপকভাবে বিবৃতি দিয়ে আসছে। কিন্তু তারা এটাকে সম্ভব করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চাপ দিতে অনিচ্ছুক। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার উৎসাহিত করার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে রাইট টু ফ্রিডম বাংলাদেশের অবনতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে যারা কথা বলছেন, তাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করেছে। যেহেতু নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্র ও অধিকারের ওপর নিয়মতান্ত্রিক আক্রমণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে মূল্য দিতে হবে। সোজা কথায় বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশে নিয়োজিত অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অংশীদারদের অবশ্যই এটা পরিষ্কার করতে হবে যে, তারা আর আগের মতো ব্যবসা করতে পারে না। বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহায়তা, নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করার জন্য আমরা বাইডেন প্রশাসন ও কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশ সরকার ও তার নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রামরত অন্যদের কাছে একটি বার্তা পাঠাবে যে, যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের বাগাড়ম্বরকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক।