• ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলা নববর্ষের ইতিহাসের মূল দিকসমূহ :‘পহেলা বৈশাখ’ বা ‘নববর্ষ’ ছিল গ্রামীণ জনপদের হালখাতা ও আনন্দের

usbnews
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৩, ২০০৯
বাংলা নববর্ষের ইতিহাসের মূল দিকসমূহ :‘পহেলা বৈশাখ’ বা ‘নববর্ষ’  ছিল গ্রামীণ জনপদের হালখাতা ও আনন্দের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সূচনাকাল: ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দ (কার্যকরীভাবে ১৫৫৬ সাল থেকে)।
প্রবর্তক: সম্রাট আকবর।
মূল ভিত্তি: কৃষি এবং খাজনা আদায়ের প্রয়োজনীয়তা

এই উৎসবটি শোভাযাত্রা, মেলা, পিঠা পায়েস , মিষ্টি মুড়ি খাওয়া, হালখাতা খোলা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য হল “শুভ নববর্ষ”।

নতুন বছরের উৎসবের সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় যোগাযোগ। গ্রামে মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে, নতুন জামাকাপড় পরে এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাড়িঘর পরিষ্কার করা হয় এবং মোটামুটি সুন্দর করে সাজানো হয়। বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও থাকে। কয়েকটি গ্রামের মিলিত এলাকায়, কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার। মেলাতে থাকে নানা রকম কুটির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন, থাকে নানারকম পিঠা পুলির আয়োজন।

খাজনা পরিশোধের গরমিলে পড়ে যেত বাংলার কৃষক। তাই প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কারের নির্দেশ দেন সম্রাট আকবর। প্রথমে এ সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিতি পায়। বাঙালির সর্বজনীন লোকোৎসব পয়লা বৈশাখ। একসময় মেলা, হালখাতা আর পুণ্যাহ উৎসব ছিল পয়লা বৈশাখের প্রাণ। বৈশাখী মেলায় থাকত গ্রামের কামার-কুমার আর তাঁতিদের হস্তশিল্পের আয়োজন। থাকত হাতে তৈরি মাটির খেলনা, মন্ডা-মিঠাই, চরকি, বেলুন, ভেঁপু, বাঁশি আর ভাজাপোড়া খাবার-দাবার। মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়দৌড়, ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতা ছিল জনপ্রিয়। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে নৌকাবাইচ, বহুরূপীর সাজ, হাডুডু খেলার আয়োজনও থাকত। আশির দশকে নতুন আঙ্গিকে, নতুন উচ্ছ্বাসে বৈশাখী উৎসব জমে ওঠে।

 

ভারতবর্ষে মোগল সম্রাজ্য পরিচালিত হতো, হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে। আর হিজরি পঞ্জিকা চাঁদের উপর নির্ভরশীল। যেহেতু কৃষকদের কৃষি কাজ চাঁদের হিসাবের সাথে মিলতো না, তাই তাদের অসময়ে খাজনা দেয়ার সমস্যায় পরতে হতো। সেই কারণে খাজনা আদায়ে কৃষকদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সম্রাট আকবর বর্ষ পঞ্জিতে সংস্কার আনেন। তখনকার বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সম্রাট আকবরের আদেশে সৌর সন ও হিজরি সন এর উপর ভিত্তি করে বাংলা সনের নিয়ম তৈরি করেন। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে প্রথম বাংলা সন গণনা করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবেই খাজনা আদায়ে এই গণনা কার্যকর শুরু হয়েছিল ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর থেকে। পূর্বে ফসল কাঁটা ও খাজনা আদায়ের জন্য এই বছরের নাম দেয়া হয়ে ছিলো ফসলি সন। পরে তা বঙ্গাব্দ আর বাংলা সন করা হয়। তখন চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে খাজনা, শুল্ক দিতে হতো কৃষকদের। তাই তখন থেকেই সম্রাট আকবর কৃষকদের জন্য মিষ্টি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। হালখাতার প্রচলনও সম্রাট আকবরের সময় থেকেই ব্যবসায়ীরা করেছে।

বাংলা নববর্ষের ইতিহাসের মূল দিকসমূহ:
সূচনা: মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর কৃষি ফসলের ওপর ভিত্তি করে হিজরি চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষের সমন্বয়ে ‘ফসলি সন’ চালু করেন, যা পরে ‘বাংলা সন’ নামে পরিচিত হয় ।
পরিকল্পনাকারী: সম্রাট আকবরের নির্দেশে রাজকীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজি বাংলা সনের প্রবর্তন করেন ।
উদ্দেশ্য: হিজরি পঞ্জিকা চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় কৃষকদের ফসলি মৌসুমের সাথে খাজনা আদায়ের মিল হতো না। এই সমস্যা দূর করতে নতুন সৌরভিত্তিক ক্যালেন্ডার চালু করা হয়।
ঐতিহ্য: নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে হালখাতা (ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা) চালু করা হয়। এ ছাড়া গ্রামীণ মেলা, পুণ্যাহ, এবং লোকজ উৎসবের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপিত হতো ।

আধুনিক রূপ: সময়ের সাথে সাথে এটি পহেলা বৈশাখ হিসেবে বাঙালিদের প্রধান সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে কথিত মঙ্গল শোভাযাত্রা, গ্রাম বাংলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানহীন কথিত যার যার সুবিধামতো ব্যবসায়ী অনুষ্ঠান , এবং আর পান্তা-ইলিশের মতো সংস্কৃতি যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ পরিহাসের জন্য। হাজার টাকায় ও মিলে যা , সেটা চালিয়ে দিচ্ছে পহেলা বৈশাখের নামে। বিশেষ শাড়ি হলো ব্যবসায়িক ধান্দা ছাড়া আর অন্য কিছু নয়। বিশেষ পোশাক গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের কাছে পরিহাসের বিষয়।

গ্রামীন রীতি অনুসারে ভোর সকালে কৃষকেরা নতুন জামা গায়ে দিয়ে পরিবারের সাথে নানান পদের পিঠা-পুলি, মিষ্টি খেয়ে দিনটি সূচনা করে। তাছাড়া, কয়েকটি গ্রাম মিলে বৈশাখী মেলার আয়োজন করতো। সেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরাও তাদের পণ্য মেলায় উঠাতেন। কেউ মাছ, কেউ খেলনা, কেউবা শাড়ি-চুড়ি, চুলের ফিতা। কিন্তু একটি পক্ষ হটাৎ করে ইলিশ মাছ খাবার ঐতিহ্য বলে চালিয়ে দিলো। যা অতীতের ইতিহাসে ছিল না। বাংলার গ্রামীণ জনমানুষ হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজাতেন।