• ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অশান্ত মণিপুর : পুলিশের ওপর হামলা

usbnews
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৩১, ২০২৩
অশান্ত মণিপুর :  পুলিশের ওপর হামলা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

শনিবার রাতে সীমান্তবর্তী শহর মোরেতে পুলিশ কমান্ডোদের ওপর হামলা চালায় সশস্ত্র গ্রুপ। আরপিজি নিক্ষেপ হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে। এতে পুলিশের ব্যারাক বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আহত হয়েছে চারজন।

এর আগে, বিকেলে ইম্ফল-মোরে হাইওয়েতে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন।

এই বিষয়ে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, বিকেলে হাইওয়ের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে রাতে আবার পুলিশের ওপর হামলা হয়। আহত কমান্ডোদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার পর আসাম রাইফেলসের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে কারফিউ জারি করা হয়।

গত ৩ মে থেকে জাতিগত সহিংসতার সাক্ষী মণিপুর। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি অবস্থা। এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চূড়াচাঁদপুর, মোরে, কাকচিং এবং কাংপোকপি জেলা থেকে বেশিরভাগ মানুষকে সরানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে কুকি ‘সশস্ত্র গ্রুপ’ অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে ওই রাজ্যে।

ইম্ফল উপত্যকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো মেইতেই জনজাতি। তবে তারা সম্প্রতি দাবি তুলেছিল, তাদের তফসিলি উপজাতির তকমা দিতে হবে। তাদের এ দাবির বিরোধিতা জানিয়েছিল স্থানীয় কুকি-জো আদিবাসীরা। এই পরিস্থিতিতে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে মণিপুরের অল ট্রাইবাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল। মিছিলকে ঘিরেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চূড়াচাঁদপুর জেলায়।

এদিকে তফসিলি উপজাতির ইস্যুর পাশাপাশি সংরক্ষিত জমি এবং সার্ভে নিয়েও উত্তাপ ছড়িয়েছে। গত এপ্রিল মাসে চূড়াচাঁদপুর জেলাতেই মুখ্যমন্ত্রী বিরেন সিংয়ের সভাস্থলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডারস ফোরামের সদস্যরা। সেখান থেকে কুকি আদিবাসী বনাম মেইতেইদের এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে অন্য জেলাতেও। আর এখন পর্যন্ত সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে কয়েক শ’ সাধারণ মানুষ।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস